মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজহারের আপিল শুনানি ২৪ জুন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:২৬, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৯, জুন ১৯, ২০১৯




এটিএম-আজহারএকাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিল শুনানি আগামী সোমবার (২৪ জুন) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি শেষে বুধবার (১৯ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন।

এর আগে, ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিএম আজহাজারুল ইসলামের খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন। আপিলে খালাসের পক্ষে যুক্তি রয়েছে ১১৩টি।

এ টি এম আজহারুল ইসলামের মূল আপিল আবেদনে ৯০ পৃষ্ঠার সঙ্গে ১১৩ টি গ্রাউন্ডসহ মোট দুই হাজার তিন শত ৪০ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আপিল দায়েরের পর তার আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আপিলে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছি, তিনি কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ মামলায় সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এটিএম আজহারুল ইসলামকে নির্দোষ প্রমাণ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৬ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী এটিএম আজাহারের বিরুদ্ধে আনা হত্যা, গণহত্যার অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রসিকিউশনের ৪ ও ২৫ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী ডকুমেন্ট তৈরি করে তারা (প্রসিকিউশন) নিজেদের মতো করে মামলা সাজিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৬টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃদ্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর জেল ও ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের জেল দেয়া হয় তাকে। আর ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতটি আপিলের রায় ঘোষণার পর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়েছে আপিল বিভাগে। প্রথমে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার রিভিউ-সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। এরপর মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মীর কাসেম আলীর পর ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি করেন আপিল বিভাগ।

/বিআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ