উবার চালক হত্যা: গোয়েন্দা নজরদারিতে আসামিরা

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ০১:৫৪, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৯, জুন ২০, ২০১৯

উবার চালিত কাররাজধানীর উত্তরায় উবার চালক মো. আরমান (৪২) হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হলেই গ্রেফতার করা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উবার চালক হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা গেলেও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা পালিয়ে যায়। এরপর নিজেদের গ্রেফতার এড়াতে স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছে আসামিরা। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম রাজধানীর উত্তরা, টঙ্গীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও পরিচালনা করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আরমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক অভিযান চলছে। আশা করছি, শিগগিরই হত্যার মূল কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই হত্যা তিন-চার জন মিলে ঘটিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আসামিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত হত্যার মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে আরমান হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি স্বামী হারিয়েছি, আমার সন্তানেরা হারিয়েছে বাবাকে। এই বেদনা কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমার সাজানো সুন্দর সংসার আজ অন্ধকারে। যারাই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন রাত ২টায় রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫২ নম্বর বাড়ির সামনে একটি গাড়ির (ঢাকা মেট্রো- গ-২৫-৪৫৪৫) ভেতর থেকে উবার চালক (স্মার্টফোনে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা) মো. আরমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরমান পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার ফতে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। মিরপুর-১১ নম্বরের ১২ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও দুই সন্তান ছেলে নাঈম (৯) ও এক বছর বয়সের মেয়ে আফরিন আক্তারকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

/এসজেএ/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ