পুলিশের দাবি পূরণ হয়নি পাঁচ মাসেও

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ১৮:২৮, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৭, জুন ২১, ২০১৯

বাংলাদেশ পুলিশএবারের পুলিশ সপ্তাহে উত্থাপিত বাহিনীর সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকটি দাবির বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ মাস পার হলেও কোনও দাবি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। কয়েকটি দাবির বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওইসব প্রস্তাবনা এখনও ফাইল চাপা হয়ে পড়ে রয়েছে। কোনোটিরই বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুলিশের কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ওই অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন সুবিধা, বিভিন্ন ভাতা, ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন, আলাদা মেডিক্যাল কোর গঠনের দাবি তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সব দাবিই তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেন। শুধু আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখবেন বলে তাদের আশ্বাস তিনি।

পুলিশের দাবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য জমি দেখতে বলেন। ক্রীড়া কমপ্লেক্সের স্থাপনের কাজ কতটুকু এগিয়েছে, জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি প্রজেক্ট তৈরি করেছি। কেরানীগঞ্জ ও পূর্বাচলের পাশে রূপগঞ্জে জমিও দেখেছি। এই দু’জায়গার যেকোনও একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য ঠিক করা হবে। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন দেওয়ার দাবি করেছিলেন কুড়িগ্রামের এএসআই মো. মাহবুবুর রহমান। এ দাবির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রাখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের লজিস্টিক শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে গত এপ্রিলে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্ট সিলভিয়া ফেরদৌস বর্তমান বেতন স্কেল অনুযায়ী ভাতা দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এছাড়া, গ্রেডভিত্তিক ভাতা বাড়ানোর দাবিও ছিল তার। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দেওয়ার দাবি করেছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই কামরুল আলম। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবির ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চাকরিরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা মারা গেলে বর্তমানে পাঁচ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। গুরুতর আহত হলে পেয়ে থাকেন মাত্র এক লাখ টাকা। এই অনুদানকে যথাক্রমে আট ও চার লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ইন্সপেক্টর আব্দুল আহাদ খান। এছাড়া দায়িত্বরত অবস্থায় এবং অভিযানে গিয়ে মারা গেলে যথাক্রমে ১৫ লাখ ও আট লাখ টাকা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই দাবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেটাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল চাপা অবস্থায় আছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এএসপি সুমন কান্তি চৌধুরী পুলিশে আলাদা মেডিক্যাল কোর ও মেডিক্যাল কলেজ করার দাবি জানিয়েছিলেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ আছে। সেই হিসাবে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতেও যেন পাঁচ শয্যার আইসিইউ করা হয়। পুলিশের জেলা হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (হেলথ অ্যান্ড অ্যাডুকেশন) তাপতুন নাসরিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক্ষেত্রে পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কিছু বিষয় রয়েছে। সেজন্য বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।’

এছাড়া, পুলিশে আরও এক লাখ জনবল, পৃথক পুলিশ বিভাগ গঠনের দাবি ছিল পুলিশের। এসব দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতদূর—জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ সদর দফতর।’ কিছু বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।  

পুলিশের এসব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (পুলিশ-২) ফারজানা জেসমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে কেউ দাবি জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কখনোই বলবেন না যে, তোমার দাবি মানি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশ দাবি-দাওয়া পেশ করতেই পারে।’ সেই দাবির বিষয়ে তিনি তার কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ