দুধ নিয়ে বিএসটিআই’র স্ববিরোধী বক্তব্যে হাইকোর্টের অসন্তোষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০২, জুন ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৫, জুন ২৩, ২০১৯

 

হাইকোর্টবাজারে থাকা লাইসেন্সবিহীন দুধ ও দইয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) দেখার বিষয় নয় বলে শুনানিতে হাইকোর্টকে জানানো হয়। শুনানির আরেক পর্যায়ে লাইসেন্সবিহীন দুধ ও দই কোম্পানির পণ্য ধ্বংস করার অনুমতি চায় বিএসটিআই। লাইসেন্সবিহীন দুধ ও দইয়ের বিষয়ে বিএসটিআইয়ের এমন স্ববিরোধী বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (২৩ জুন) এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিকালে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান (মামুন)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

শুনানির শুরুতে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এমআর হাসান আদালতকে বলেন, ‘বিএসটিআই ১৮১টি পণ্যের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। তার মধ্যে দুধ অন্যতম। এ পর্যন্ত পাস্তুরিত দুধ ও দই বাজারজাতকরণের জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখভাল করার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। এর বাইরে কারা দুধ ও দই বাজারজাত করছে, সেটা দেখার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের নয়।’

আদালত বলেন, ‘লাইসেন্স দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের হলে, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর পড়ে। কিন্তু আপনারা বলছেন, দেখার দায়িত্ব আপনাদের না। আপনাদের এই বক্তব্য এফিডেভিট আকারে আদালতে দাখিল করুন।’

এরপর বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আরও বলেন, ‘ঢাকায় অভিজাত দোকানগুলোতে এই ১৮টি কোম্পানির দুধ ও দই ছাড়া লাইসেন্সবিহীন কোম্পানির দুধ-দই বিক্রি হয় না। ঢাকার বাইরে স্থানীয়ভাবে এসব বিক্রি হয়।’

তখন আদালত জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ল্যাবের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর একটি প্রতিবেদন দেখিয়ে বলেন, ‘গুলশানের অভিজাত দোকান, সুপারশপগুলোতে লাইসেন্সবিহীন কোম্পানির দুধ বিক্রির তথ্য এখানে উল্লেখ রয়েছে। আপনার বক্তব্য সঠিক নয়।’

একপর্যায়ে আদালত বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ও কর্মকর্তার বক্তব্যে অসন্তোষ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? লাইসেন্স নেই; অথচ দুধ বাজারজাত করছে। এটা দেখার দায়িত্ব কার?’

জবাবে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, ‘এটা দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের।’

এ সময় দুদকের আইনজীবী মামুন মাহবুব ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন আদালতকে বলেন, ‘আইনে এসব দেখার বিষয়ে বিএসটিআইকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা দায়িত্ব এড়িয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এজন্য আদালতকে কঠোর হতে হবে।’

এরপর আদালত বিএসটিআইকে লাইসেন্স দেওয়া ও লাইসেন্সবিহীন কোম্পানির পণ্যের তালিকা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু কৌশলে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এমআর হাসান আদালতকে বলেন, ‘আপনারা তালিকা না চেয়ে আমাদের লাইসেন্সের বাইরে যারা দুধ বাজারজাত করছে তাদের পণ্য ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।’

বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘আপনারা (বিএসটিআই) স্ববিরোধী কথা বলছেন। একটু আগে বললেন, দেখার দায়িত্ব আপনাদের না। এখন আবার ধ্বংস করার অনুমতি চাচ্ছেন। এসব বাদ দিন। আগে আপনারা তালিকা দাখিল করুন। বাকিটা আদালত দেখবেন।’

এরপর দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসটিআইকে তাদের লাইসেন্স দেওয়া ও বাজারে পাওয়া যায় এমন লাইসেন্সবিহীন দুধ ও দই বাজারজাতকারী কোম্পানির তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। 

আরও পড়ুন...

ঢাকার বাজারে দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

তরল দুধের ৯৬ নমুনার ৯৩টিতে ক্ষতিকর উপাদান  

/বিআই/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ