ঋণখেলাপিদের ‘বিশেষ সুবিধা’ আরও ২ মাসের জন্য স্থগিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৪, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, জুন ২৪, ২০১৯

 

হাইকোর্ট

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার আরও ২ মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানিতে সোমবার (২৪ জুন) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. মুনিরুজ্জামান।
গত ১৬ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ‘ঋণ পুনঃতফসিল এবং এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’ জারি করা হয়। এতে খেলাপি ঋণের অনারোপিত সুদ মওকুফ সুবিধার পাশাপাশি খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের দায়ের করা মামলা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়। এছাড়া আরেকটি সার্কুলারে যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন, তাদের সুদে ১০ শতাংশ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পরে এই সার্কুলারের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ। এর শুনানিতে সার্কুলারের কার্যক্রম সোমবার (২৪ জুন) পর্যন্ত স্থগিত রাখার এবং একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে গত ২০ বছরে দেশের ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
এর ধারাবাহিকতায় এদিন (২৪ জুন) শুনানি হয়। এর আগে ঋণখেলাপিদের তালিকা হাইকোর্টে জমা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ওপর আগের স্থগিতাদেশ আরও ২ মাস বাড়ানোর আদেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি ব্যাংক খাতে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, বিভিন্ন প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকে ঋণের ওপর সুদ মওকুফসংক্রান্ত বিষয় তদন্ত এবং তা বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নে কমিশন গঠনের অনুরোধ জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ নোটিশপ্রাপ্ত অন্যরা ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও আইন মন্ত্রণালয় সচিব।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাংক খাতে অনিয়মের বিষয় তদন্ত ও প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ১৯৫৩ সালের ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের অধীনে একটি কমিশন গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে এর উত্তর না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ।

/বিআই/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ