বিআরটিএ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারছে না: হাইকোর্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৫, জুন ২৫, ২০১৯



রাসেল সরকারসড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলেও বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) শৃঙ্খলা ফেরাতে পারছে না। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এদিন বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে মাসিক ৫ লাখ কিস্তিতে ক্ষতিপূরণের বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এসময় আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলেও বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) শৃঙ্খলা ফেরাতে পারছে না।




আদালতে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওজি উল্লাহ। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। অন্যদিকে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন খন্দকার সামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আলম মাহমুদ বাশার।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস রাসেলকে চাপা দেয়। এতে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে চিকিৎসকদের।
মঙ্গলবার শুনানির শুরুতে গ্রিনলাইন পরিবহনের মালিকের পক্ষে আদালতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমানো এবং কিস্তিতে তা পরিশোধের একটি আবেদন করা হয়।
এই আবেদন দেখে আদালত গ্রিনলাইনের আইনজীবী ওজি উল্লাহর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কত টাকা (ক্ষতিপূরণ) দিয়েছেন?’ জবাবে ওজি উল্লাহ বলেন, ‘চিকিৎসা বাবদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি।’
আদালত বলেন, ‘আপনারা অসহায় এ ছেলেটার একটা ব্যবস্থা করতে পারতেন। কোনও না কোনোভাবে সহযোগিতা করতে পারতেন। আপনারা আপিল বিভাগে গেছেন, সেখানে আপনাদের আবেদন নাকচ হয়েছে। এখন আমরা বিষয়টা শুনতে বাধ্য। যদি ২৫ লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য এবং বাকি ২৫ লাখ তার জীবন নির্বাহের জন্য দিতেন, ভালো হতো। কিন্তু মানুষ হিসেবেও কিছু করেননি। আপনাদের আচরণ ছিল অশোভনীয়। এখন ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ কমানোর কোনও সুযোগ নেই। আপনারা ক্ষতিপূরণ কমানো এবং কিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ চাইছেন। তার ওপর ইচ্ছাকৃত গাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ ছেলেটার একটু খোঁজ নিলেন না।’
তখন রিটকারীর আইনজীবী খন্দকার সামসুল হক রেজা আদালতকে বলেন, ‘তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেনি। এমনকি কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে, তাও জানায়নি। প্রতিদিন তাদের আয় ১ কোটি টাকা।’
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আপনারা (গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ) তো দেউলিয়া হয়ে যাননি, কিছু টাকা দিলে কী হতো? ছেলেটার সামনে এখনও অনেক সময় পড়ে আছে।’

বিআরটিএ’র আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘বিআরটিএ ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির কার্যক্রম এখনও চলছে।’
আদালত বলেন, ‘আমরা কমিটি নয়, অ্যাকশন দেখতে চাই। সড়কে এখনও বিশৃঙ্খলা রয়েছে। এবারের ঈদে অন্তত ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছে ৭০০ জন। আপনারা কীসের নিরাপত্তা দিচ্ছেন?’
জবাবে বিআরটিএ’র আইনজীবী আবারও আদালতকে বলেন, ‘আমরা কমিটি করেছি।’
তখন আদালত বলেন, ‘এটা (কমিটি গঠন) গতানুগতিক। মানুষ মারা যাচ্ছে। বিআরটিএ কিছু করতে পারছে না।’
এরপর আদালত কঠোর ভাষায় গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি আপনার আদেশ লঙ্ঘন করেন, তাহলে আমরাও অন্য ব্যবস্থা নেবো। কোনোভাবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমানোর সুযোগ নেই। যে লোক আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করার ফন্দিফিকির খোঁজে তাকে সরকার কীভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, সেটা আমরা দেখবো।’
আদালত আরও বলেন, ‘আপনারা ধর্মঘট করতে পারেন, আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা শপথ নিয়েছি, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। অনেক বেয়াদবি করেছেন, আমরা সহ্য করেছি। ম্যানেজারের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ।’
এরপর আদালত রাসেলকে ক্ষতিপূরণের অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা কিস্তি আকারে প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকা করে পরিশোধের নির্দেশ দেন। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে এই কিস্তির টাকা পরিশোধ করে ১৫ তারিখে আদালতকে জানাতে হবে।

/বিআই/এইচআই/

লাইভ

টপ