গবেষণা খাতে বরাদ্দ কমেছে ঢাবি সিনেটে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট পাস হবে আজ

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:০৭, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১০, জুন ২৬, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট বুধবার (২৬ জুন) সিনেটে উপস্থাপন করা হবে। এবারের বাজেটের পরিমাণ ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যা গতবারের চেয়ে আর্থিক হিসেবে বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ব্যয় হিসেবে বাড়েনি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন। গতবারের বাজেটের পরিমাণ ছিলো ৭৪১ কোটি ১৩ লাখ। এবারে গবেষণা খাতে বরাদ্দ আগের চেয়ে কমে ৫.০৪ শতাংশ রাখা হয়েছে, গত বছর যা ছিল বাজেটের ৬.৬২ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে ৯২ কোটি টাকা বাড়ানোর আবেদন করলে ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারের বাজেটে খুব বেশি পরিবর্তন নেই। প্রায় আগের মতোই আছে। এবারের বাজেটে কোন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে কোনও খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ সরকার কোনখাতে কত ব্যয় করা হবে, সে নির্দেশনা দিয়ে দেয় এবং সে নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা চাইলেই তা পরিবর্তন করতে পারি না। যেমন বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ থাকে মোট বাজেটের ৬০ শতাংশ। বাকি বাজেট গবেষণাসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়। সব সময় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা এবং গবেষণায় বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। অবশ্যই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এটিকেই সাপোর্ট করার জন্যই। তবে, বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপের জন্য গত বছর বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তবে, গবেষণা খাতে ওইভাবে বলতে গেলে বরাদ্দ বাড়েনি।’

মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি বেতন-ভাতায়
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার বরাদ্দ হবে। যা মোট বাজেটের প্রায় ৫৫ কোটি ৮২ লাখ। গতবারে যা ছিল ৫৮ কোটি ১৫ লাখ। হিসেবে যা গতবারের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে, এবারের বাজেটে সরকারের উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) বিভিন্ন মেয়াদে যে আর্থিক সহযোগিতা করে, তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবারের বাজেটের সঙ্গে তা সংযুক্ত হয়নি।

গবেষণা খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ
মূল বাজেটে গবেষণা খাতে মাত্র ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ৫.০৪ শতাংশ। গতবারে এ খাতের বরাদ্দের চেয়ে কম। গতবার ছিল ৬.৬২ শতাংশ।

গবেষণা খাতে বরাদ্দ কমার কারণ
বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) দশ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবারের বাজেটে এই প্রকল্পের আর্থিক অনুদান না থাকায় গবেষণা খাতের বরাদ্দ কমেছে বলে জানা যায়। তবে, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এটির আর্থিক অনুদান পেলে গবেষণা খাতের বরাদ্দও বাড়বে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পের এবারের বিষয় হলো ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকচেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট’। যার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে হেকেপ ৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে।

এবারের ঘাটতি বাজেট
এবারের বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ আনুমানিক ৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন হতে অতিরিক্ত বরাদ্দ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘাটতি সমন্বয় না করা গেলে শিক্ষার মানের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে বাজেট বইতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ