সেই ‘গহীন’কে পেতে আদালতে আবেদন সাত দম্পতির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০০, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৪, জুন ২৬, ২০১৯

শিশু হাসপাতালের বাথরুমে পাওয়া সেই নবজাতক গহীন

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতালের সি-ব্লকের একটি বাথরুমে পাওয়া নবজাতক ‘গহীন’কে পেতে আদালতে সাত দম্পতি আবেদন করেছেন। আজ বুধবার (২৬ জুন) এ আবেদনের শুনানি শেষ না হওয়ায় ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক সাফিয়া শারমিন আগামী ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২০ জুন সাত দম্পতির পৃথক পৃথক আবেদনে বিবাদী সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ছোট সোনামনি নিবাসের উপ- তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালকের প্রতি সমন ইস্যু করার আদেশ দেন আদালত।

আবেদনকারী সাত দম্পতির মধ্যে রয়েছেন রাসেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী পলি বেগম। তারা আট বছরের বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান। তারাই প্রথম এ শিশুকে দেখতে পান ও থানায় জিডিও করেন। এ দম্পতি আবেদনে বলেন, মাতৃস্নেহে শিশুটিকে দেখভাল করবেন।

গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো. শাহ আলম শাহীন ও তার স্ত্রী যুব মহিলালীগের নির্বাহী সদস্য ও মানবাধিকার সংস্থা আশকের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হামিদা আক্তার মিতা। এ দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

মেসার্স তালবিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. কাউছার আহমেদ ও মিসেস ভিয়েনা আক্তারও গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। তারা নিঃসন্তান।

গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পশ্চিম নাখালপাড়ার বাসিন্দা নিঃসন্তান মো. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি ২০১০ সালে বিয়ে করেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র সাব-এডিটর শামীমা ইয়াসমিনও গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। তিনিও নিঃসন্তান।

গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন নিঃসন্তান দম্পতি পপুলার অ্যাসোসিয়েটের মালিক মো. শফিউদ্দিন ও তার স্ত্রী শায়লা সফি। তারা ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন।

এ ছাড়া, সপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ঝিনাইদাহের বাসিন্দা মো. এরশাদ আলী ও তার স্ত্রী প্রাশতিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। ২০১১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এ দম্পতিও নিঃসন্তান।

১৮৯০ সালের গার্ডিয়ান অ্যান্ড অর্ডাস অ্যাক্ট এবং ১৯৮৪ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ৫(২) ধারার বিধান অনুযায়ী গহীনের অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার আবেদন করেন এই সাত দম্পতি।

আদালত সূত্র জানায়, ছোটমনি নিবাসে নেওয়ার আগে গহীনকে দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যান আবেদনকারীরা। হাসপাতাল থেকে ছোটমনি নিবাসে নেওয়ার পর তারা সেখানেও যান। কিন্তু আইন অনুযায়ী সরাসরি হাসপাতাল বা ছোটমনি নিবাস থেকে গহীনকে দত্তক নেওয়ার বা তার অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা আদালতে আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে দুপুর ২টার দিকে শিশু হাসপাতালের বাথরুম থেকে নবজাতক গহীনকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির বয়স তিন-চার দিন হতে পারে।

/টিএইচ/এমএ/

লাইভ

টপ