‘সে যে মাদক ব্যবসা করে তা আমি জানতাম না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৫৫, জুন ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩৫, জুন ২৭, ২০১৯

রিফাতের হত্যাকারী নয়ন (ছবি: সংগৃহীত)বরগুনায় রিফাত নামে এক যুবককে স্ত্রীর সামনে নৃশংসভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মূল হোতা নয়নের অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই অবগত নন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভূ। তিনি বলেন, ‘সে (নয়ন) আমার এলাকারই ছেলে। সে যে মাদক ব্যবসা করে তা আমি জানতাম না। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

বুধবার (২৬ জুন) বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে আলোচক সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে শম্ভূ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন।   

এ সময় সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার জিজ্ঞাসা ছিল, ‘পুলিশ বলছে, নয়নের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে। সে ওই এলাকার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র এত বড় একটা যুদ্ধ করছে অথচ আপনার এলাকায় এত বড় এক মাদক ব্যবসায়ী রয়ে গেল। এবং সে এত বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বসলো!’

নয়ন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তার বিষয়ে শম্ভূ কিছু জানেন না বললে ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মিথিলা ফারজানা তাকে প্রশ্ন করেন,  ‘জানাই যদি না যাবে, তাহলে সারা দেশে এরকম যেসব মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে?’

এর উত্তরে শম্ভূ পুলিশের প্রতি দোষারোপ করে বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়েছি এত বড় একজন অপরাধী বরগুনায় ঘুরে বেড়ায়। নিশ্চয় এ ব্যাপারে পুলিশের আরও বেশি তৎপর হওয়া উচিত ছিল।’ 

এ ঘটনার কারণে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে এলাকায় যাবেন কিনা জানতে চাইলে শম্ভূ জানান, পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ আছে বলে আগামীকাল তিনি যেতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, বরগুনায় নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে তারা। বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আশপাশের অনেক লোক সন্ত্রাসীদের এ তাণ্ডব দেখলেও একজন ছাড়া তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেনি কেউ। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

আরও পড়ুন: স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ নারীর, তবুও শেষ রক্ষা হলো না

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ