সুন্দরবন রক্ষায় জাতিসংঘের উপদেশ সঠিকভাবে ও দ্রুত পালনের দাবি জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। সোমবার (৮ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত ‘সদ্যসমাপ্ত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা, উপকূল ও সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য শরীফ জামিল বলেন, সুন্দরবন ও উপকূল এলাকার প্রাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নে ইউনেস্কো এবারের সভায় বনকে বিপদাপন্ন তালিকাভুক্ত করেনি, তবে ২০১৭ সালের শর্তগুলোকে সঠিকভাবে পালনের জন্য শক্তভাবে আবারও দায়িত্ব প্রদান করেছে, এজন্য সময় দেওয়া হয়েছে এক বছর। ইউনেস্কোর পরিদর্শন টিম আসবে এ বছরেই, আর সুন্দরবনের বিপদাপন্ন তালিকাভুক্তির আলোচনাও হবে। অর্থাৎ সবকিছু মিলে জাতিসংঘ আরও একটু শক্তভাবে আমাদের করণীয় নির্দিষ্ট করেছে। তাই, সরকারকে আমরা জাতিসংঘের উপদেশ সঠিকভাবে ও দ্রুত পালনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, সুন্দরবনকে নিরাপদ ও ভালো রাখার বিষয়ে আমাদের দেশের সফলতা নিয়ে ইউনেস্কোর ৪১তম সভায় (২০১৭) বেশ কিছু নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ ছিল। আমরা তাদের সেসব পর্যবেক্ষণকে সঠিক বলে মনে করি। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল সেসব বিষয়ে করণীয় সব কাজ সম্পন্ন করে এবারের ৩০ জুন আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় অবহিত করা। বাংলাদেশ তার কি করেছে, তা আর আমাদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের কাজের একটি প্রতিবেদন ইউনেস্কোর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বাকুর সভায় বাংলাদেশের কাজের প্রতিবেদন নিয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ, ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য আবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিন সুন্দরবন দেখতে আসার কথা। বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী বছর ওই সময় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম সভায় তা আবার মূল্যায়ন করা হবে। সেই সভা বাংলাদেশ সরকারের কাজে সন্তুষ্ট না হলে এক বছর পর আবার ‘সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐতিহ্য’ তালিকায় চলে যেতে পারে। যা হবে আমাদের এই বন, জনগণ ও দেশের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও অপমানজনক।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির পর্যালোচনাও উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির প্রধান নির্বাহী ইফতেখারুজ্জামান, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইদুল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








