অর্থ পাচার মামলায় আজিজ কো-অপারেটিভের চেয়ারম্যান গ্রেফতার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৩৫, জুলাই ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৫, জুলাই ১৪, ২০১৯

অর্থ পাচার মামলায় আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলামকে (৫৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল ও রমনা থানায় মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রাহকের জমা করা তিনশ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শতকোটি টাকা কানাডায় পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
সিআইডি জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালে আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়। সমবায় অধিদফতর থেকে এই কোম্পানির কার্যক্রম সমগ্র বাংলাদেশে ২৬টি শাখার অনুমোদন নেয়। কিন্তু তারা ৮০টি শাখা পরিচালনা করে ১১ হাজার ৪২৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক তিনশ’ কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করে। এই আমানত তারা আত্মসাৎ করে।
সিআইডি কর্মকর্তারা আরও জানান, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের ৮০টি শাখার ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তারা গ্রাহকদের বেশি মুনাফার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে। জমা করা টাকার মেয়াদ পূর্তিতে গ্রাহকের আসল টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত চাইতে গেলে তাদের ঘুরানো হয়। আজ দেবে কাল দেবে বলে কালক্ষেপণ ও টালবাহানা করে।
তাজুল ইসলাম এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন চৌধুরীসহ আরও কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ১২টি বিভিন্ন তফসিলভুক্ত ব্যাংকে ৭৭টি হিসাবের মাধ্যমে আনুমানিক তিনশ’ কোটি টাকা স্থানান্তর করে।
ব্যাংকের হিসাব বিবরণীর বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, এই সোসাইটি গ্রাহকদের জমা করা আনুমানিক তিনশ’ কোটি টাকা নগদ ও অনলাইনে ট্রান্সফার করে পরস্পর যোগসাজসে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করে। পরে সেই টাকা নিজ নামে, স্ত্রী আফরোজা পারভীন এবং ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরের নামে রাখে।
সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে তারা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। সেগুলো হলো সাউদি বাংলা প্রপাটিজ লি. ঢাকা, তানভীর এন্টারপ্রাইজ ঢাকা, তানভীর অটো ব্রিক লি. ঢাকা-এসব প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা স্থানান্তর করে। এরপর সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যদের নামে চেক ইস্যু করে। তারপর তারা নগদ টাকা উত্তোলন করতো।
আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট ব্যাংক নামে আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড, “ব্যাংক” শব্দটি ব্যবহার করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে প্রতারণার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করে জমা করা অর্থ আত্মসাৎ করে। পরে সেই টাকা দিয়ে জমি, ফ্ল্যাট, নামে বেনামে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চালু এবং নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার, আটি মৌজায়, ঢাকা-চট্রগ্রাম রোডে আজিজ কো-অপারেটিভ মুক্তিসরণী শপিং মল/ টাওয়ার নামে ৬০ শতাংশ জমির ওপর বহুতল ভবন স্থাপন করে স্থানান্তর করে। যা মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ।
প্রাথমিকভাবে সিআইডি অনুসন্ধানে মানি লন্ডারিং প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম, কর্মকর্তা সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীর এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাকির চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিআইডি মানি লন্ডারিং আইনে রমনা থানায় মামলা করেছে।
উল্লেখ্য, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম কানাডার গ্রিন কার্ডধারী এবং তার ছেলে ফারহাদুল ইসলাম ছাব্বির এবং রিয়াজুল ইসলাম রিজভী উভয়ে ২০১১ সাল হতে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। আসামি তাজুল সাধারণ গ্রাহকের জমা করা আমানত হতে শতকোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান ও সাবেক ৩১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ ও সমিতির অর্থ আত্মসাতের কারণে সমবায় অধিদফতর সমবায় আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী ২.৪৬ কোটি টাকা জরিমানা করে যা আজও সমিতির কোষাগারে জমা দেয়নি তারা।
তাদের বিরুদ্ধে রমনা, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি রমনা থানার মামলা, বংশাল এবং আদালতে দুটি নালিশি মামলা রয়েছে।

/এআরআর/এআর/

লাইভ

টপ