গবেষণা থামাবেন না অধ্যাপক ফারুক

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ০১:৫৮, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৩, জুলাই ১৫, ২০১৯

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক


দুধে দুই দফা অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নানা মহলের রোষানলে পড়েন তিনি। তার গবেষণার মান এবং গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান। গবেষণা নিয়ে আলোচনা হয় সংসদেও। দুধের প্রতিবেদন নিয়ে নানা মহল থেকে তাকে চাপ দেওয়া হয় বলেও গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেলে শত চাপ আসলেও গবেষণা চালিয়ে যাবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক।

গত ২৫ জুন এবং ১৩ জুলাই দুই দফা দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ফারুক। তিনি প্রথম পরীক্ষার তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে জানান, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো দুধের প্রায় প্রতিটি নমুনায় পাওয়া গেছে লেভোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক।

এছাড়া অপাস্তুরিত দুধের নমুনার একটিতে ফরমালিন এবং একটিতে ডিটারজেন্ট পাওয়ার তথ্য জানান তিনি। এরপর আবারও ১৩ জুলাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি জানান, বাজারে বিক্রি হওয়া পাঁচটি কোম্পানির সাত ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত গরুর দুধে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষাতেও আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। প্যাকেটজাত এ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে- মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো দুধ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ফারুক জানান, প্রথম দফায় দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তিন রকম অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল। এবার চারটি পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে পরীক্ষাটি পুনরায় করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবারও আগের পাঁচটি কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের নমুনা এবং খোলা দুধের তিনটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ১০টি নমুনাতেই উদ্বেগজনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এবার অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার ধরনের। এগুলো হলো, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন। এর মধ্যে আগেরবার ছিল না এমন অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দুটি। তা হচ্ছে, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন। ১০টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার রকমের। ছয়টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তিনটি এবং একটিতে দুই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুধের প্রতিবেদন প্রকাশের পর নানা ধরনের চাপে আছি। সেগুলো বলে আর কি হবে? এ নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এগুলো বলে কোনও লাভও নেই।

এদিকে রবিবার তার গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি। সংস্থাটি প্রথম গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর চিঠি দিয়ে তার কাছ থেকে তথ্যগুলো চায়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চিঠিতে জানতে চেয়েছিল –কোথায় পরীক্ষা করেছি, কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, কোন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। আমি তাদেরকে সব তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে পেয়ে যাওয়ার কথা। যেভাবে যেভাবে যা চাওয়া হয়েছে সবই আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছি।

এই গবেষণা তিনি চালিয়ে যাবেন কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এখন দেখি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদন দেয়, নিশ্চয়ই করবো। আগে যে কাজটি করেছি, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুদান নিয়েই করা। মন্ত্রণালয় যদি মনে করে কাজটি চলমান থাকুক, তাহলে করবো। আর না হলে অন্য কোনও উপায় থাকলে করবো।’

 

/টিটি/

লাইভ

টপ