স্মৃতিতে অম্লান সাংবাদিক লাবলু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:৪১, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫০, জুলাই ১৫, ২০১৯

 যার হাত ধরে অসংখ্য মানুষের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি, যে মানুষটি সারা জীবন ব্যয় করেছেন সাংবাদিকদের কল্যাণে, তার অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না বন্ধু, স্বজন ও সহকর্মীরা। সবার মানসপটে শত-সহস্ত্র স্মৃতির ভিড়। রবিবার (১৪ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় সৈয়দ আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী লাবলুর স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তার রেখে যাওয়া কর্মের বর্ণনা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন সবাই।

তারা বলেছেন, লাবলুর চলে যাওয়া সাংবাদিকতার জগতে অপূরনীয় ক্ষতি। একইভাবে তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে নানা উদ্যোগের কথাও উঠে আসে স্মরণ সভার আলোচনায়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ইলিয়াস হোসেন বলেন, কোনোদিন কোথাও লাবলু ভাইয়ের বিষয়ে একটা নেতিবাচক কথা শুনিনি। সহজ-সরলভাবে কীভাবে সবার সঙ্গে মেশা যায়, তা তিনি শিখিয়ে গেছেন।

সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, কোনও বিপদগ্রস্ত সাংবাদিক লাবলুর কাছে গিয়েছে, কিন্তু সহায়তা পায়নি, এমন ঘটনা নেই। লাবলুর সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মকাণ্ড সবাইকে বিমোহিত করতো। তার চলে যাওয়া সাংবাদিক সমাজের অপূরনীয় ক্ষতি।

ক্র্যাবের সাবেক নেতা খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, ক্র্যাবের সঙ্গে লাবলুর জীবন জড়িত। যতদিন ক্র্যাব থাকবে ততদিন লাবলুর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

মধুসুধন মন্ডল বলেন, যেদিন লবলু মারা গেছেন, সেই দিনটিকে নির্ধারণ করার দাবি করছি। যেন ওই দিন, আমরা সব বন্ধুদের চলে যাওয়া স্মরণ করতে পারি। দ্বিতীয়ত লাবলুর স্মরণে একটা স্মরণ সংখ্যা প্রকাশ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, ক্র্যাবের কল্যাণ তহবিল গঠন করা যেতে পারে, যেন ভবিষ্যতে কারো বিপদে আমরা তার পাশে থাকতে পারি।

সাংবাদিক লাবলুর স্ত্রী এরিনা সুলতানা শিল্পী বলেন, লাবলুর অসুস্থতার সময় সবাই যেভাবে সহায়তা করেছেন, এতে সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সে সবসময় সংগঠন পাগল ছিল। সে দুইহাতে মানুষকে দিতো, কখনো কখনো তা আমিও জানতাম না। এটা ছিল তার স্বভাব। তার সংগঠনের সব কাজে আমিও অংশগ্রহণ করেছি। এতে সংগঠনটি আমার আপন হয়ে গেছে। বাকিটা জীবন আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে চাই, আপনাদের মধ্যেই তার স্মৃতি খুঁজতে চাই।

লাবলুর ছোটভাই আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, আমার সব দাবি লাবলু ভাইয়ের কাছে ছিল। যখন যা চাইতাম, তিনি পূরণ করতেন। শুধু আমার না, আমার পরিবারেরও সবার দাবি এই ভাইয়ের কাছেই ছিল। ভাইয়ের অসুস্থতার সময় সবাই পাশে থাকার জন্য আমার পরিবার আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

এসময় ক্র্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, লাবলুর স্মৃতি ধরে রাখতে ক্র্যাবের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় তার সবই করা হবে। যে সব প্রস্তাব এসেছে, তার সবগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

ক্র্যাবের নবনির্মিত ভবনের হলরুমের নাম ‌‘সৈয়দ আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী লাবলু স্মৃতি হল’ করা এবং প্রতিবছর লাবলুর নামে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার চালুর দাবি জানান ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার। বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার কথাও জানান তিনি।

দীপু সারোয়ারের সঞ্চালনায় স্মরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী শুভ, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম প্রমুখ।

গত ৮ জুলাই রাত দশটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী লাবলু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। আখতারুজ্জামান লাবলু ২০০৪ সালে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ভোরের কাগজে যোগ দেন। এরপর প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদেই ছিলেন তিনি। ৮০’র দশকের শেষ দিকে কৃষাণ পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর দৈনিক সমাচার ও অনলাইন পোর্টাল বিএনএস (বাংলাদেশ নিউজ সার্ভিস)-এ কাজ করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর একই পদে ২০১০, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৬ সালে মোট ছয়বার দায়িত্ব পালন করেন।

 

/এআরআর/টিটি/

লাইভ

টপ