ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নিয়োগ বাতিল আদেশের আপত্তিকর অংশ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩১, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২০, জুলাই ১৫, ২০১৯



ভিকারুননিসা নূন স্কুল

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল আদেশের বাদ দেওয়া আপত্তির অংশ কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একইসঙ্গে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, গত ৪ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের আদেশ জারি করা হয়। প্রক্রিয়া যথাযথ না হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে বলে ওই আদেশে বলা হয়।

একইসঙ্গে ওই আদেশে বিধিবহির্ভূতভাবে একটি অংশ জুড়ে দিয়ে বলা হয়, ‘এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য ইতোপূর্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ভবিষ্যতে স্বনামধন্য কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার অনুরোধ করা হলো।’

আদেশের ওই অংশ নিয়ে পরে সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে গত ৭ জুলাই আদেশের বিতর্কিত অংশ বাদ দিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে যথাযথ আদেশ জারি করতে নির্দেশ দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

গত ৭ জুলাই বাংলা ট্রিবিউনকে সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আমার আগের আদেশটি ঠিক হয়নি। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে বেসরকারি লোকজন রয়েছে। বিষয়টি তাদের সম্মানে আঘাত করার মতো। ওই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তারা যে আদেশ দেবেন সেটাই হবে যথাযথ আদেশ।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ড যে আদেশ দিয়েছে, সেখানে কারও বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়া আগের গভর্নিং বডির সেই সদস্যরা তো এখন আর সেখানে নেই।’

প্রসঙ্গত, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানটির সেই সময়ের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার, সদস্য আতাউর রহমান ও সদস্য ডা. মজিবুর রহমান। এছাড়া, অন্য সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী এবং ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘এসব ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে আদেশের মাধ্যমে বিতর্কিত অংশ যোগ করা হয়েছিল।’

এদিকে, আদেশের বিতর্কিত অংশ নিয়ে প্রতিবাদ করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার। আদেশে বিতর্কিত অংশ কেন সংযোজন করা হলো তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তদন্ত দাবি করেন গোলাম আশরাফ তালুকদার। লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, ‘উল্লেখিত অংশটুকু অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি বিশেষ গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন কার্যকর আছে এডহক কমিটি। ফলে তারাও বিধিমালা অনুসারে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে পারবে না। অথচ এখানে প্রায় ৯ বছর ধরে একজন পূর্ণ অধ্যক্ষ নেই। বছরের পর বছর চলছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে।

/এসএমএ/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ