মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্টের ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫৭, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৯, জুলাই ১৮, ২০১৯




সুপ্রিম কোর্টনির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ১৫৮টি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। অধিদফতরের প্রতিবেদন দাখিলের পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ওই প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাড়ে চার হাজার ফার্মেসি পরিদর্শন করে ১৫২টি মামলা ও মোট এক কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

শুনানিকালে আদালত বলেন, এ কাজ প্রশংসনীয়। তবে এটা চলামান রাখতে হবে। জনসাধারণ, ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী সবাইকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া ওষুধের পাতায় (স্ট্রিপ) স্পষ্ট ও বড় হরফে বাংলা ও ইংরেজি লেখায় মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেছেন আদালত।

আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি বলেন, ‘আইন অনুসারে এটা চলমান প্রক্রিয়া। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।’

সারাদেশের পাশাপাশি মিটফোর্ডে অভিযানের বিষয়ে আদালতের প্রশ্নে কামরুজ্জামান কচি বলেন, ‘১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে।’

তখন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশে বলেন, ‘এখন প্রযুক্তির যুগ। সবখানে পত্রিকা না পৌঁছলেও টিভি আছে। দুর্গম কোনও চরেও টিভি আছে। তাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া য়ায় কিনা, তা দেখুন। যদিও এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে। তারপরও সচেতন করেন। ফিল্ডে (মাঠ পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে অভিযান) যে রকম অ্যাকশন নিচ্ছেন, তেমনি প্রচার-প্রচারণায়ও করতে হবে।’

আদালত আরও বলেন, ‘ওষুধে উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য বড় করে থাকতে হবে। যেন ভিজিবল হয়। অনেকে আবার ইংরেজি বোঝেন না। কিন্তু আমাদের ওষুধ রফতানি হয়। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে এগুলো থাকতে হবে।’

জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ মোতাবেক অভিযান চালানো হয়েছে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।’

এরপর আদালত বলেন, ‘ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তো বিষ হয়ে যায়। তাই জনসচেতনতা দরকার।’ এসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান চলবে। যথেষ্ট কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য আপনাদের নির্দেশে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তখন আদালত বলেন, যথাযথ স্টেপ নেওয়ায় অ্যাপ্রিশিয়েট করছি। এ অভিযান প্রশংসনীয়। এখানে যারা ব্যবসা করছেন, তাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। যারা উৎপাদন করছেন তাদেরও। কারণ ওষুধ বিদেশে রফতানি হয়। এখানে সেফ থাকলে বিদেশে সুনাম হবে।’

এ সময় রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, আইন অনুসারে ওষুধের মেয়াদ ভিজিবল হতে হবে। এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেননি। এরপর তিনি ওরস্যালাইন, ইনজেকশন, হাঁপানির ওষুধসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করেন।

ওইসব ওষুধ দেখে আদালত বলেন, মেয়াদ আছে। তবে সেটা বোঝার উপায় নেই। অনেক মানুষ এটা পড়তে পারবে না। এগুলো ভিজিবল হওয়ার দরকার। তাই বিষয়টি দেখার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটিকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২২ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, এর আগে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে গত ১১ জুন ‘ঢাকায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন গত ১৭ জুন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানি শেষে গত ১৮ জুন মেয়অদোত্তীর্ণ সব ওষুধের বিক্রি বন্ধ ও তা একমাসের মধ্যে ধ্বংস করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার করে ধ্বংসের আদেশ দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। সে আদেশ প্রতিপালন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

/বিআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ