শিক্ষকদের অবস্থানের ৩৩ দিন, সরকারের সাড়া মেলেনি এখনও

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ২৩:৪৬, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০০, জুলাই ১৯, ২০১৯

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের পাশের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অন্তর্ভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের অবস্থানের আজ ৩৩ দিন পার হলো, কিন্তু এখনও সাড়া মেলেনি সরকারের। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। সেসময় ২৬ হাজার ১৯৩ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান করা হয়েছিল। তার সংখ্যা যথাযথ না হওয়ায় জাতীয়করণ যোগ্য আরও ৪ হাজার ১৫৯ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়। আর সেই জাতীয়করণের দাবিতে ৩৩ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষকরা।
অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য প্রেসক্লাবের সামনের জায়গায় অবস্থানের অনুমতি পাননি তারা। যার কারণে অবস্থান নিয়েছে সিরডাপের ফুটপাতে। অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত একজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও গিয়েছেন। এছাড়াও শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আছে আরও ১০ জন। আর সব মিলিয়ে ২৩৭ জন অসুস্থ হয়েছে বলেও জানান তারা।
সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থানের আজ ৩৩ দিন চলছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাইনি। কিন্তু আমাদের মৌখিকভাবে বলেছে। আমরা জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া এখান থেকে যাবো না। প্রয়োজনে কোরবানির ঈদ এখানে করবো। এই জাতীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত যদি আমাদের আরও কারও মৃত্যু হয়, আমরা তাতেও রাজি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবস্থানে এখন পর্যন্ত আমাদের একজন মারা গেছেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত আছেন ১০ জন। আর এই ৩৩ দিনে মোট ২৩৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
সমিতিটির সিনিয়র সংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে আমাদের এখান থেকে বিদায় করুক। না হলে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাবো এবং মৌন মিছিল করে সচিবালয় ঘেরাও করবো।’
কেন্দ্রীয় সহ- অর্থ সম্পাদক মোকলেসুর রহমান মানিক বলেন, ‘আমরা এখানে ৩৩ দিন ধরে আছি। প্রধানমন্ত্রীর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারির ঘোষনার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই। সেই ঘোষণার মধ্যেই আমাদের বিদ্যালয়গুলো আছে। যতদিন পর্যন্ত সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাচ্ছি না।’

/এআর/

লাইভ

টপ