সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে বিমানকর্মীরা!

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২২:১৩, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, জুলাই ১৯, ২০১৯




স্বর্ণ চোরাচালান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনাপাচারে জড়িয়ে পড়ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা। প্রতিনিয়ত চোরাকারবারিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। গত কয়েক মাসে কাস্টম ও পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়েছে বিমান ও বিমানবন্দরের একাধিক কর্মী। প্রতিটি সোনার বার বহনের জন্য ২ হাজার টাকা করে পেতো তারা। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৩ জুলাই প্রায় ৪ কেজি সোনাসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মী এমদাদ হোসেন চৌধুরী ও মো. আবদুর রহিমকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। এই দু’জন বিমানের কার্গো হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিল। সেদিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার গেটের সামনে থেকে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩৮টি সোনার বার পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তাকে সহায়তা করার জন্য মো. আবদুর রহিমকে আটক করে পুলিশ।

বিমানবন্দরের কাস্টম ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোনা পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল অবলম্বন করে। আগে যাত্রীবেশে জামা, জুতা, ব্যাগে লুকিয়ে আনা হতো সোনা। পেটের ভেতরে করেও সোনা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, চার্জার লাইট, ব্লেন্ডার, পাওয়ার ব্যাংকের ভেতরেও সোনা পাচারের সময় ধরা পড়েছে অনেকে। তবে, এবার পাচারকারী চক্র এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরের কর্মীদের সহায়তায় বিমানের সিট, টয়লেটসহ অন্যান্য স্থান ব্যবহার করছে। এসব সোনা ময়লা, ট্রলি, যন্ত্রপাতির মধ্যে লুকিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়।

জানা গেছে, ১৩ জুলাই থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসে থাই এয়ারের একটি ফ্লাইট (টিজি ৩২১)। ওই ফ্লাইটে একটি কার্গো মালামালের কার্টনে বেয়ারিংয়ের সঙ্গে কালো স্কচটেপ মোড়ানো দুটি ছোট প্যাকেটে পাঠানো হয় সোনার বার। ওই মালামালের কার্টনটির এয়ারওয়ে বিলসহ অন্যান্য তথ্য পাচারকারীরা পাঠায় এমদাদ হোসেন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে। বিমানটি থেকে যখন মালামাল নামিয়ে কার্গো কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তথ্য পেয়ে এমদাদ কার্গো কন্টেইনারে প্রবেশ করে। এরপর সে কার্টনটি খুঁজে বের করে। পরে কার্টনটি কেটে সোনার বারের দু’টি প্যাকেট নিজের কাছে নিয়ে নেয়। তাকে এ কাজে সহায়তা করে আবদুর রহিম। নিজের মোবাইল ফোন আবদুর রহিমের কাছে রেখে এরপর সোনাসহ বিমানবন্দরের ৮ নম্বর (হ্যাঙ্গার গেট) গেট দিয়ে বের হয় এমদাদ। তবে, বের হলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় সে। এ ঘটনায় আর্মড পুলিশ বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানবিরোধী ধারায় মামলা দায়ের করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সিঙ্গাপুর থেকে মোরশেদ নামের এক ব্যক্তি সোনাগুলো থাই এয়ারওয়েজের কার্গোর মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য দেন মফিজ নামের এক ব্যক্তির কাছে। ১১ জুলাই সোনাগুলো থাই এয়ারওয়েজের কার্গোতে পাঠিয়ে এয়ারওয়ে বিলসহ অন্যান্য তথ্য এমদাদের মোবাইলে পাঠায় মোরশেদ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদ স্বীকার করে, তার সঙ্গে বিমানের প্রহরী সেলিম হোসেন, শাহজাহান, অবসরে যাওয়া বিমানের প্রহরী রকিবুল ইসলাম সোনা চোরাচালানে জড়িত।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলায়। তবে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় কৌশল বদলালেও তারা ধরা পড়ছে।’ তারা সব সময়ই চোরাচালান প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ