বাড্ডায় গণপিটুনিতে নিহত নারীর পরিচয় মিলেছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, জুলাই ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৬, জুলাই ২০, ২০১৯

গণপিটুনিরাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। শনিবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় নিহতের ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু ও অন্য স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, সন্তানকে ভর্তির খোঁজখবর নিতে ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন রেনু।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইয়াসিন গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে স্বজনরা রেনুকে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

গণপিটুনিতে জড়িতদের মধ্যে কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছি। গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিহত তাসলিমার ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন,  ‘নিহত রেনু মহাখালীর ৩৩/৩ জিপি/জ ওয়্যারলেস গেটে থাকতেন। তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এর আগে তিনি উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পাশে আলী মোড় এলাকায় স্বামী তসলিম হোসেনের সঙ্গে পরিবার নিয়ে থাকতেন। গত দুই বছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে মহাখালীতে বসবাস করতেন রেনু।’

তিনি আরও বলেন,  ‘রেনু উত্তর বাড্ডায় ওই স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন থাকতে কীভাবে রাজধানীর ভেতরে বাড্ডা এলাকার লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করে? আমি এর বিচার চাই। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’

প্রসঙ্গত, শনিবার (২০ জুলাই) সকাল পৌনে সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজার সড়কে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নারী উত্তর বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী নিহত

 



/এসজেএ/এআইবি/এমএএ/

লাইভ

টপ