মানবতাবিরোধী অপরাধ: গাইবান্ধার চার আসামির মামলার রায় যে কোনও দিন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৫, জুলাই ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৯, জুলাই ২১, ২০১৯



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মো. রনজু মিয়াসহ চার আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রায় যেকোনও দিন ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (২১ জুলাই) বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি।

আসামিদের মধ্যে মো. রনজু মিয়া (৫৯) কারাগারে আছেন। বাকি তিন আসামি জাছিজার রহমান ওরফে খোকা (৬৪), মন্তাজ আলী ব্যাপারী (৬৮) ও আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডল (৬২) এখনও পলাতক।

এরআগে, ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মোট চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চার অভিযোগ
এক. একাত্তরে জুন মাসের প্রথম দিকে রাজাকার আজগর হোসেন খানের নেতৃত্বে ৮/১০ জন রাজাকার এবং ১৫/২০ জন পাকিস্তানি সেনা হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য গাইবান্ধা জেলার সদরের সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে হামলা করে। তারা অম্বিকা চরন সরকার, দ্বিজেন চন্দ্র সরকার ও আব্দুল মজিদ প্রধানকে নির্যাতন করেন। আসামিরা ফুল কুমারী রানী ও তার জা সাধনা রানী সরকারকে (বর্তমানে মৃত) আটক করে নির্যাতন করেন। তারা মুসলমান হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কপালের সিঁদুর এবং হাতের শাখা ভেঙে দিয়ে ছেড়ে দেন।

দুই. একাত্তরে আসামিরা গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আবু বক্কর, তারা আকন্দ, আনছার আলী এবং নছিম উদ্দিন আকন্দসহ মোট ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেন। ৪০/৫০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করে আগুনে পুড়িয়ে দেন।

তিন. একাত্তরে আসামিরা গাইবান্ধা জেলার সদর থানার সাহাপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে লাল মিয়া বেপারী, আব্দুল বাকী ও খলিলার রহমানসহ ৫জনকে গুলি করে হত্যা করেন।

চার. আসামিরা গাইবান্ধার সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা, মিরপুর, সাহারবাজার, কাশদহ, বিসিক শিল্প নগরী, ভবানীপুর ও চকগায়েশপুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, ইসলাম উদ্দিন ও নবীর হোসেনসহ মোট ৭জনকে গুলি করে হত্যা করেন। 

/বিআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ