পদোন্নতি নিয়ে মতভেদ, আটকে আছে ২ সিটির নতুন জনবল কাঠামো

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১০:০০, জুলাই ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৯, জুলাই ২২, ২০১৯

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি

দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) করপোরেশনের জনবল কাঠামো। পুরনো কাঠামোর মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়েই সংস্থা দুটি তাদের দ্বিগুণ এলাকায় নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে। এ কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে দায়িত্বরত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতভেদ থাকায় জনবল কাঠামোর বাস্তবায়ন আটকে আছে।

দুই সিটির কর্মকর্তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় সংস্থা দুটির আয়তন বেড়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি, বরং বিভক্ত হওয়ার সময় দুই ভাগ হয়েছে আগের জনবল। এজন্য যথাযথ নাগরিক সেবা পাচ্ছে না নগরবাসী। বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব।

দুই সিটি সূত্র জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালের অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের জনবল কাঠামো দিয়েই (অরগানোগ্রাম) চলছে দুই সিটি করপোরেশন। সংস্থা দুটি বিভক্ত হওয়ার পর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দুই সংস্থার পক্ষে পৃথক দুটি কাঠামোর প্রস্তাব পাঠানো হয়। তখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ঢাকা উত্তরের জন্য ১ হাজার ৮৫৮ এবং দক্ষিণের জন্য ২ হাজার ৪৮২ জন জনবল চূড়ান্ত করে। অর্থাৎ দুই সিটি করপোরেশন মিলে ৪ হাজার ২৮০ জন। যদিও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের জনবল ছিল ৫ হাজার ১১৭ জন।

১৯৯১ সালে রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ১৩৭ জন। আর তখন নগরীর আয়তন ছিল ১২৯ বর্গকিলোমিটার। আর এখন নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় এর আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে। ফলে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয় নতুন কাঠামো। পাশাপাশি এর আঞ্চলিক কার্যালয়ও বেড়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি।

সূত্র জানায়, পরে দুই সংস্থার প্রত্যেক বিভাগের মতামতসহ ওই কাঠামো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পুনরায় পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে উত্তরের জনবল ১ হাজার ৮৫৮ জনের জায়গায় ২ হাজার ৫০০ এবং দক্ষিণের ২ হাজার ৪৮২ জনের জায়গায় ৩ হাজার ৪০০ করার প্রস্তাব করা হয়। এরপর থেকে এটা নিয়ে ফাইল চালাচালি ও তদবির চলছে। তবে এখনও অনুমোদন পায়নি। এ অবস্থায় দুই সিটি করপোরেশন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া কিছু জনবল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সরকারের জরুরি কাজে নিয়োজিত সদস্যদের দিয়েই নাগরিক সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের যে জনবল রয়েছে তা অবশ্যই অপ্রতুল। এখন সিটি করপোরেশনের আয়তন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি, বরং আরও কমছে। মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়ে এখন দ্বিগুণ ঢাকায় সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রমসহ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের যে জনবল কাঠামো রয়েছে সেটা দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরামে বলেছি। মন্ত্রী মহোদয়ও চেষ্টা করছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিডেন্সের সদস্যদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’ শিগগিরিই জনবল কাটাবার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনগণকে যথাযথ সার্ভিস দেওয়ার জন্য অবশ্যই জনবল বাড়াতে হবে। আমাদের জনবল খুবই অপ্রতুল। সে কারণে জরুরি সার্ভিস দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, জনবল কাঠামো অনুমোদন পেলে নগরীতে এই সমস্যাগুলো দেখা দিতো না। দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হতো। তখন আরও ভালো সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হতো।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দুই সিটি করপোরেশন থেকে অরগানোগ্রামের বিষয়ে যে প্রস্তাবনা পেয়েছি, সেটি চূড়ান্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটি তো এত দিন পেইন্ডিং থাকার কথা না। আমি আবার খোঁজ নিচ্ছি।’

পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জনপ্রশাসনও বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তবে কর্মকর্তাদের প্রমোশনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, এটা একটা পরীক্ষার মাধ্যমে হবে। এই বিষয়টি সিটি করপোরেশন মানতে রাজি হচ্ছে না। এ নিয়েই মূলত একটু সমস্যা চলছে। সোমবার (২২ জুলাই) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হবে। আশা করি সেখানে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ