সাত কলেজ বাতিল আন্দোলন: উপাচার্য দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ০২:০২, জুলাই ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১১, জুলাই ২৩, ২০১৯





সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমাবেশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-তে চলমান সাত কলেজ আন্দোলন নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সোমবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক (উপাচার্য) বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে আসা পর্যন্ত আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। কারণ আমরা কাঠামোগতভাবে সাত কলেজের বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’
শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ডাকসু। উপাচার্য বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে কার্যকর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না তারা। এখন শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছেন প্রতিনিধিরা। ডাকসুর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তবে, সাত কলেজ বাতিলের বিষয়ে উপাচার্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা পেলে ক্লাসে ফিরবেন আন্দোলনকারীরা।
সাত কলেজ বাতিল আন্দোলনের মুখপাত্র শাকিল মিয়া বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে ডাকসুর সমর্থনকে সাধুবাদ জানাই। তবে, যতক্ষণ না উপাচার্য স্যার এসে আমাদের দাবি মেনে না নেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। আমাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এবং অন্য নেতারা সম্মতি জানিয়েছেন। পরে ডাকসু সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে। এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব লড়াইয়ের আন্দোলন। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই এ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপাচার্য স্যার বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। তবে, ইতোমধ্যে ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে। ডাকসুর পক্ষ থেকে যখন দায়িত্ব নিয়ে কিছু বলা হয় তখন নিয়মতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর এভাবে জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ইতিহাস বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। আন্দোলনকারীরা প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। আমরা এখনও এই আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু বলিনি। তার মানে এই নয় যে, আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জন জীবন ব্যাহত করবে। এতে কি শিক্ষার্থীরা লাভবান হচ্ছে?’

সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে ডাকসু
সাত কলেজের বিষয় নিয়ে চলমান সংকটের যৌক্তিক সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাকসু। এজন্য দুই-এক দিনের মধ্যে ডাকসুর একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, উপাচার্য এবং প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দেশের বাইরে তাই বিষয়টি সমাধানে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবো। চলমান সমস্যা নিরসনে আমরা কাজ করবো৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসেছি। কিন্তু উপাচার্য স্যার না থাকায় কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রশাসন দিতে পারেনি। কিন্তু, সভায় সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বোঝা হয়ে যায় এমন একটি আলোচনা সবার মতামতে উঠে আসছে। সে জায়গা থেকে উপাচার্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আর সাত কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ডেকে বলেছিলেন। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে কথা বলাটা অনেকে শোভনীয় মনে করছেন না। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। কিন্তু আমরা বলেছি যেহেতু শিক্ষার্থীরা সাত কলেজকে চাচ্ছে না, সেহেতু তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে কেন সাত কলেজকে রাখবো। শিক্ষকদেরও একটি অংশ এটা চাইছেন না৷ এসব বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যারয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির কাছে পরামর্শ চাইবো আমরা।

/টিএন/

লাইভ

টপ