লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে সরকারের মনিটরিং কার্যকর করার পরামর্শ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:৪৯, জুলাই ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৯, জুলাই ২৩, ২০১৯

গবেষণার তথ্য বিষয়ক সভা লিঙ্গীয় সহিংসতা রোধে সরকার গঠিত মনিটরিং সেল বা কমিটিগুলো পুরোপুরি কার্যকর নয় মন্তব্য করে সহিংসতা রোধে সরকারের মনিটরিং পুরোপুরি কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিবাচক চর্চা এবং সম্ভাব্য কৌশল’ সম্পর্কে গবেষণার তথ্য বিষয়ক এক সভায় এই পরামর্শ জানানো হয়।

গবেষকদল বাংলাদেশে অ্যাসিড ও অন্যান্য সহিংসতার বর্তমান  প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছেন। তারা গত ১০ বছরের অ্যাসিডসহ অন্যান্য সহিংসতার যেমন ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও অন্যান্য দগ্ধ সহিংসতার ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, অ্যাসিড সহিংসতা হ্রাস পেলেও নারী ও শিশুর প্রতি অন্যান্য জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণালব্ধ ফল থেকে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যাসিডসহ অন্যান্য সহিংসতার মূল কারণগুলো হলো- শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সভায় গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে সরকারের প্রতি পরামর্শ হিসেবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘যৌন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিষ্কার অবস্থান জানানো উচিত। সরকার এটাকে কীভাবে দেখছে। এই বাণিজ্যের অবশ্যই একটি নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। কারণ যৌন হয়রানি, ধর্ষণের পেছনেও এটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া সহিংসতা রোধ করার জন্য জেন্ডার রেস্পন্সিভ বাজেটেও সরকারের আরও বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন আছে।’

সেলিনা আহমেদ আরও বলেন, ‘আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে আমরা হতাশাব্যঞ্জক চিত্র দেখি। আমরা দেখি অ্যাসিড সন্ত্রাসের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশের নিচে বিচার পাওয়া গেছে। কাজেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত বিষয়টি সংসদের অন্যান্য কমিটির কাছে তুলে ধরার পাশাপশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় গবেষণাপত্রটির সারসংক্ষেপ শেয়ার করে তাদের মতামত গ্রহণ করতে বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আইনুল কবীর বলেন, ‘তার মন্ত্রণলয়ের পক্ষ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি জেন্ডার সহিংসতা সংক্রান্ত যেকোনও বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সহায়তা করতে সবসময় প্রস্তুত।’

ইউএনডিপির মানবাধিকার প্রোগ্রামের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর শর্মিলা রসুল বলেন, ‘ইউএনডিপির মানবাধিকার প্রোগ্রাম সম্প্রতি তিনটি গবেষণা করেছে, যা একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং গবেষণায় চারটি সাধারণ বিষয় উঠে এসেছে।’ এই তিনটি গবেষণালব্ধ ফল নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রোগ্রাম পরে সরকারের পরিকল্পনায় সহায়তা করবে বলে তিনি জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাসুদ আহমেদ।

 

/এসও/এনআই/

লাইভ

টপ