‘মিন্নির প্রতি উৎসাহী না হয়ে অন্যদের দিকে নজর দেওয়া উচিত পুলিশের’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ জুলাই ২০১৯, ২০:০৯আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ২০:২৯

হাইকোর্ট বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির প্রতি উৎসাহী না হয়ে মামলার অন্য আসামিদের দিকে পুলিশের নজর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। মামলাটি সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) বা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কর্তৃক তদন্তের নির্দেশনা চাওয়ার বিষয়ে রিটের শুনানিতে রবিবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। শুনানিতে আদালত বলেন, ‘পুলিশ অ্যালার্ট থাকলে রিফাতকে মরতে হতো না। পুলিশ কি ঘুমিয়ে ছিল? পুলিশের উচিত মিন্নির প্রতি উৎসাহী না হয়ে অন্য আসামির দিকে নজর দেওয়া। মিন্নির নাম তদন্তে পাওয়া গেলে সাক্ষী হতে বাধা কোথায়? আমরা তদন্তের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।’ এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। এ পর্যায়ে আদালত হস্তক্ষেপ করলে তদন্তে ব্যাঘাত হবে।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা (বন্দুকযুদ্ধ) করা হয়েছে। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘পুলিশকে গুলি করলে তারা পাল্টা গুলি করতেই পারে।’ এরপর আদালত রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
প্রসঙ্গত, বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় পিবিআই বা সিআইডির তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৫ জুলাই হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি করেন। রিটে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশ এমন স্পর্শকাতর মামলা তদন্ত করতে অভিজ্ঞ নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বড় ধরনের মামলা সিআইডি তদন্ত করে। সিআইডির কাজ হলো তদন্ত করা। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের কাজ আসামিদের গ্রেফতার করা। ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলা পিবিআই তদন্ত করে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে পিবিআই বা সিআইডি দ্বারা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
রিটে আরও বলা হয়, রিফাত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। অন্য কোনও সাক্ষী নেই। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত। এ অবস্থায় সাক্ষীকে আসামি করলে প্রকৃত বিচার হবে না। সাক্ষীর জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নেওয়া যাবে কিন্তু আসামি হিসেবে জবানবন্দি নেওয়া যাবে না। অথচ মিন্নিকে পাঁচদিনের রিমান্ড দেওয়া হয় এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাই মিন্নির গ্রেফতার ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অবৈধ হবে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের আইজি, বরিশালের ডিআইজি, বরগুনার পুলিশ সুপারসহ সাত জনকে বিবাদী করা হয়।

/বিআই/ওআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পাহাড়, গোলাপ আর মেঘে ঘেরা সৌদি আরবের তাইফ
পাহাড়, গোলাপ আর মেঘে ঘেরা সৌদি আরবের তাইফ
আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্সে হসপিটালের ৫০০ শয্যার দ্বিতীয় ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্সে হসপিটালের ৫০০ শয্যার দ্বিতীয় ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রান্নাঘরের পোড়া বাসন পরিষ্কারে চমকপ্রদ ঘরোয়া কৌশল
রান্নাঘরের পোড়া বাসন পরিষ্কারে চমকপ্রদ ঘরোয়া কৌশল
শিশুরাই পর্নোগ্রাফির শিকার, তারাই আবার এতে আসক্ত
শিশুরাই পর্নোগ্রাফির শিকার, তারাই আবার এতে আসক্ত
সর্বাধিক পঠিত
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
আয়কর বিবরণী যাচাইয়ে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ঋণের চাপে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে চেকিং পয়েন্ট পার হয়েছেন আশিয়ানের এমডি, শাস্তি পাচ্ছেন ২ অপারেটর
গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে চেকিং পয়েন্ট পার হয়েছেন আশিয়ানের এমডি, শাস্তি পাচ্ছেন ২ অপারেটর