মামলাই হয়নি, হেলমেটধারীদের বিচার তো দূরের কথা!

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ১২:৩১, জুলাই ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৭, জুলাই ৩০, ২০১৯

ফটো সাংবাদিকের ওপরে হামলানিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে ২০১৮ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট হেলমেটধারী যুবকদের হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক এবং আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। দুই দিনে হেলমেটধারীদের হামলায় ১৫-২০ জন সাংবাদিক ও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা। ঘটনার এক বছর কেটে গেলেও থানায় কোনও মামলা হয়নি। যে কারণে চিহ্নিত হয়নি হেলমেটধারী হামলাকারীরা।

ওই হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা জানান, আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন থাকায় এবং এর প্রতিবাদে সাংগঠনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এককভাবে কেউ মামলা করতে রাজি হননি। একইভাবে হামলার কয়েকদিনের মাথায় আন্দোলন থেমে যাওয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনও শিক্ষার্থী বা তাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি।

মামলা না হওয়ায় এ হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। হামলার এক বছরে হেলমেটধারীদের পুলিশ শনাক্ত করেছে কিনা জানতে চাইলে রবিবার (২৮ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানান তিনি।

জিগাতলায় হামলায় আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা জাহানতবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে হামলার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, এই হামলার সময় পুলিশ চারপাশেই ছিল। হামলাকারীদের হাত থেকে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি তারা। উল্টো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছিল পুলিশ।

আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ৪ ও ৫ আগস্ট। প্রথমদিন শুধুমাত্র জিগাতলা এবং দ্বিতীয় দিন সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলায় হামলা চালানো হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, আন্দোলন শুরুর পর অন্যান্য দিনের মতো জিগাতলার মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী গাড়ির কাগজপত্র চেক করছিল। দুপুরের পর হেলমেটধারী কিছু যুবক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। শুরুতে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য সরে গেলেও সংগঠিত হয়ে আবার ফিরে আসে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ইট-পাটকেল ছোড়া হয় একে অন্যের দিকে। এরই মধ্যে কয়েকজন পিস্তল দিয়ে গুলিও করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনায় ২০-২৫ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছিলেন, হামলাকারীরা তাদের কর্মী-সমর্থক নয়। উল্টো নিজেদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়।

হামলার শিকার সাংবাদিক আহমেদ দীপ্তআন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ওইদিন দুপুরের পর খবর আসে একজন ছাত্রকে জিগাতলায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। একজনকে ধর্ষণের খবরও আসে। যদিও পরে জানা যায়, এসব তথ্য গুজব। এই গুজব ছড়িয়ে পড়লে সায়েন্সল্যাব ও শাহবাগে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা জিগাতলার দিকে ছুটে আসে। এ সময় বিজিবি সদর দফতরের ফটকের সামনে একদল যুবকের হামলার শিকার হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হামলাকারীদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা গুলিও চালানো হয়েছে। এভাবে চলার পর সন্ধ্যায় পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।

আগের দিন (৪ আগস্ট) জিগাতলা হামলার প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা নার্সিং কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে জিগাতলা হয়ে আবারও শাহবাগে ফিরে আসবে।

প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা জাহান ইতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মিছিলটি সায়েন্সল্যাব হয়ে জিগাতলা আসার পর বিজিবি ফটক পার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড আসার পর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। আমাদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দৌড়ে জিগাতলা মোড়ে বিজিবি ফটকের উল্টো পাশের গলির রাস্তায় ঢুকি। আমাদের পেছন থেকে পুলিশ ধাওয়া করে। আর গলির অন্যপাশ থেকে আক্রমণ করে কিছু যুবক। আমরা মাঝখানে আটকা পড়ে যাই। তখনও আমাদের ওপর টিয়ারশেল মারা হয়। যুবকরা লাঠি দিয়ে আমাদের আঘাত করে। আমি হাতে ও কোমরে আঘাত পাই। এরপর আমার বন্ধু অপু ও অন্যরা আমাকে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

সিটি কলেজ সংলগ্ন সড়কে মুখোমুখি অবস্থানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরাহামলার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, জিগাতলায় ধাওয়া খেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশ সরে আসে সিটি কলেজের দিকে। আশপাশের সড়কগুলো থেকে পুলিশ দল বেঁধে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদের তাড়িয়ে দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া শতাধিক ছাত্রী সীমান্ত স্কয়ার সংলগ্ন একটি ভবনে আটকা পড়ে। পরে পুলিশ একপাশে সরে গেলে ছাত্রীরা বেরিয়ে সিটি কলেজের দিকে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কলেজের আশপাশের সড়কগুলোতেও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। দুপুর দেড়টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় কিছু যুবক। যাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ছিল। এই হেলমেটধারীরাও চড়াও হয় আন্দোলনকারীদের ওপর। কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন। সাংবাদিকরা হামলার ছবি তুলছে দেখে তাদের মারধর করে হেলমেটধারী হামলাকারীরা।

হামলায় আহত হওয়া সাংবাদিকদের একজন বণিক বার্তার ফটো সাংবাদিক পলাশ শিকদার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ও আহাদ ভাই (এএফপির তৎকালীন ফটোগ্রাফার) রাইফেল স্কয়ারের সামনে কিছু শিক্ষার্থীদের সেফ করি। আমরা এরপর সায়েন্সল্যাব চলে আসি। এখানে আসার পর পুলিশ সদস্যরা আমাদের রাস্তা ছেড়ে ফুটওভারব্রিজে যেতে বলেন। আমরা ওপরে ওঠার পর অন্যপাশ থেকে ধেয়ে আসে কিছু লোক। যাদের মাথায় হেলমেট ছিল। আমাদের খুব গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে আমাদের আঘাত করা হয়। প্রথম আঘাত আমার গায়ে লাগে। দ্বিতীয় আঘাতটা আহাদ ভাইয়ের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরি। তখন আমার ওপর চড়াও হয়। আমরা ছবি তুলিনি বলার পরও আমাদের মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা পুলিশ ট্রাফিক বক্সের পেছনের গলিতে ঢুকি। সেখানে যাওয়ার পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা কিছু ছেলেমেয়ে আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।’

প্রাথমিক চিকিৎসা চলার সময় আবারও হেলমেটধারীরা হামলা চালায় বলে জানান পলাশ শিকদার। তিনি বলেন, ‘আমার চিকিৎসা নেওয়ার সময় আবার কিছু হেলমেটধারী হামলা চালায়। আমাকে পাশের একটি গ্যারেজে নিয়ে আটকে রাখে। আমাদের যারা চিকিৎসা করছিলেন তাদের ও আহাদ ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। রক্তাক্ত করে ফেলে যাওয়ার পর আহাদ ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ভর্তি করি গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মিছিল(সায়েন্সল্যাব এলাকা)এ হামলার ঘটনায় কোনও মামলা না হওয়ার প্রসঙ্গে এই ফটো সাংবাদিক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি ভাবার মতো অবস্থা তখন ছিল না। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল হেলমেটধারীদের শনাক্ত করে বিচার করা হবে। কিন্তু গত এক বছরেও হয়নি। দেরিতে হলেও বিচার চাই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামলার শিকার আরেক ফটো সাংবাদিক বলেন, ‘মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মামলা করার মতো অবস্থা ছিল না। সবাই তখন গুজব নিয়ে ব্যস্ত। আর আমাদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশও স্বপ্রণোদিত হয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করেনি।’

সেদিন হামলার শিকার হয়েছিলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক আহমেদ দ্বীপ্ত। ৫ আগস্টে তার ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিগাতলা থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর আমি সায়েন্সল্যাব হয়ে শাহবাগ যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু বাটা সিগন্যালের দিকে পুলিশের অবস্থান দেখে সায়েন্সল্যাব ফুটওভারব্রিজের নিচে বাইক রেখে থামি। ততক্ষণে ঢাকা কলেজের দিক থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে একশো থেকে দেড়শো জন যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে আসে। তাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ছিল। তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসার পর সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে যারা মোবাইল বা ক্যামেরায় ছবি তুলছিল তাদেরকে মারধর করা হয়। দুই দফা মারধর করার পর এএফপির আহাদ ভাইসহ আমরা যারা ওখানে ছিলাম তাদেরকে আবারও মারধর শুরু করে। আমাকে মারার সময় তারা জিজ্ঞেস করছিল, আমার ক্যামেরা কোথায়? আমি ফটোগ্রাফার না বলার পরও তারা আমাকে লোহার পাইপ, লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ইট-পাটকেল থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তখন আমার মাথাতেও হেলমেট ছিল। যে কারণে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। আমার হাতে-পায়ে, পিঠেসহ বিভিন্ন জায়গায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর কয়েকজন হামলাকারী আমার হেলমেট জোর করে খুলে নেয়। আমার হেলমেট খুলে নিয়ে মাথায় আঘাত করে। কোনোক্রমে সেদিন বেঁচে ফিরেছিলাম। পরে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

হামলায় আহত হন এপির ফটো সাংবাদিক আহাদবেলা আড়াইটার দিকে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাঁশি বাজাতে বাজাতে ল্যাবএইড সিগন্যালের দিকে আসে। সেখানে আসার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মারুফ হোসেন। দেশীয় অস্ত্রসহ কারা হামলা চালিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মিছিল নিয়ে আসা ছাত্রদের প্রথমে ফিরে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা যায়নি। পরে আমরা টিয়ারশেল দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করেছি।’

মিছিল নিয়ে আসা ছাত্রদের টিয়ারশেল মেরে নিবৃত্ত করা হলেও পুলিশের সামনে যারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করছে, তাদের নিবৃত্ত কেন করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা কারও ওপর লাঠিচার্জ করিনি। কারা লাঠি নিয়ে ঘুরছে তাদের পরিচয় জানা নেই। আমরা নিজেরাও তাদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত।’ যদিও তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, তার পেছনে দুইশ গজ দূরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিল হেলমেটধারীরা।

লাঠি হাতে একদল হামলাকারীসাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঘটনার পরদিন (৬ আগস্ট ২০১৮) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের একাংশের সাংবাদিকরা। হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাংবাদিকরা। একই দিন বিকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা ঘিরে মানববন্ধন করেন সাধারণ সাংবাদিক। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে আর কোনও বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। বিচারের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হওয়ার আগে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচালকদের প্রতিযোগিতার কারণে প্রাণ হারিয়েছিল শহিদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী। তারা হলো– দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। আহত হয়েছিল আরও ১০-১২ জন শিক্ষার্থী। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন থেকেই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন রমিজ উদ্দিনসহ আশপাশের কয়েকটি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমে আসে লাখ লাখ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলননৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। পরিবহনে ও রাস্তায় শৃঙ্খলা আনতে শিক্ষার্থীরাই কাজ শুরু করে। গণপরিবহনসহ ব্যক্তিগত গাড়ির কাগজ চেক করা শুরু করেন আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। শুরুতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিলেও তাতে পরে যুক্ত হন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথম কয়েকদিনের আন্দোলনে পুলিশ বা প্রশাসনে পক্ষ থেকে কোনও বাধা না দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশি বাধা ও হেলমেটধারীদের হামলার শিকার হন আন্দোলনকারীরা।

এরই মধ্যে ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভায় একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করা হয়। যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে বেশকিছু দাবি পূরণ ও পূরণে আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা ফিরে যান শ্রেণিকক্ষে। ৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে চলা আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

/আরজে/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ