ঈদে কী পরিমাণ ডেঙ্গু ছড়িয়েছে জানতে সপ্তাহ দেড়েক সময় লাগবে

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:০৩, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৭, আগস্ট ২১, ২০১৯

এডিস মশা

গত কয়েকদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মতে, এটা সম্ভব হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে লোকজন ঢাকায় ফেরার পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। তবে ঈদের সময় কী পরিমাণ ডেঙ্গু ভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা জানতে আরও এক-দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের ছুটি থাকায় গত কয়েক দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার একটু কম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১০-১৫ দিন পর সারাদেশে আবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় (১৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ জন। আগের দিনের তুলনায় যা ৫ শতাংশ কম। সারাদেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৭৩৩ জন, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে। অর্থাৎ রোগীর হারে নিম্নগতি, আশা করছি এটা আর বাড়বে না।’

যদিও গত শনিবার (১৭ আগস্ট) তিনি বলেছিলেন, ‘ঈদে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষ রবিবার থেকে ঢাকায় ফিরবে। আগামী সাতটা দিন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।’

সরকারি হিসাবে, সোমবার (১৯ আগস্ট) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৩৬ জন। আর গত মাসে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৬ হাজার ২৫৩ জন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। অনেক মানুষ চলে গিয়েছিল বলেই ঢাকার ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছিল। তখন কিন্তু ঢাকার বাইরে রোগী বেড়ে গিয়েছিল। আবার গত কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। তাতে করেই ঝুঁকি বাড়ছে। আর গ্রাম থেকে মানুষ আক্রান্ত হয়ে এলে ঢাকায় ফেরার পর হয়তো ধরা পড়বে। তাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটির জন্য গত কয়েক দিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার একটু কম। তবে আগামী ১০-১৫ দিন পর সারাদেশে আবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। কারণ ঢাকা থেকে অনেক ডেঙ্গু রোগী গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছেন। তাদের অনেকের রক্তেই ডেঙ্গু ভাইরাস ছিল। গ্রামে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে অনেককেই এডিস মশা কামড় দিয়েছে। ডেঙ্গু তাদের শরীর থেকে মশার শরীরে প্রবেশ করেছে। এখন ৮-১০ দিন সময় লাগবে সেই মশার শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস বংশ বৃদ্ধি করতে। তখন এই ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস মশা কোনও সুস্থ মানুষকে কামড় দিলে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবেন। মশা কামড় দেওয়ার পর ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে সাধারণত ৫-৭ দিন সময় লাগে। সুতরাং ঈদের সময় কী পরিমাণ ডেঙ্গু ভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা জানার জন্য আমাদের আরও এক-দেড় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, গত বছর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগে যত রোগী রক্ত পরীক্ষা করিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল নভেম্বরে। সুতরাং এডিস মশা বেড়ে যাওয়ার সময় পার হয়ে গিয়েছে, এমনটি ভাবার কোনও সুযোগ নেই। 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ