মোজাফফরের মৃত্যুতে বিএনপি-জাপাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শোক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২৮, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪১, আগস্ট ২৪, ২০১৯

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের এই সভাপতি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
তার মৃত্যুর খবরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মোজাফফর আহমদকে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অনন্য প্রধান সংগঠক ও প্রতিথযশা রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'বর্তমানের এই দুঃসময়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো একজন গুণী রাজনীতিবিদের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়াতে দেশে গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হলো।'

শুক্রবার রাতে বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এদেশের সামাজিক অগ্রগতি এবং মানুষের মুক্তির রাজনীতিতে তার অবদান ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অবিচ্ছেদ্য নাম অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তার রাজনীতি ও সংগ্রাম এদেশের মানুষের কাছে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের শেষে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক আপোষহীন সিপাহ্সালার। তার মৃত্যুতে দেশবাসী একজন প্রাজ্ঞ অভিভাবককে হারালো।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং-এর সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'কিছুদিন আগে অসুস্থ থাকা অবস্থায় মোজাফফর আহমদকে দেখে এসেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই সময় তিনি তার স্বাস্থ্য ও পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম ব্যথিত।

অধ্যাপক মোজাফফরের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নেতাকে হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।

জাপা চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় জিএম কাদের বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শুন্যতা তৈরি হয়েছে; যা সহসা পূরণ হবার নয়। তিনি ছিলেন দেশপ্রেম ও স্বচ্ছ রাজনীতির কিংবদন্তী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ-এর অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে। শিক্ষা ও রাজনীতিতে তার অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি-ও তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত শোকবাণীতে বি. চৌধুরী বলেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মৃত্যুতে আমি এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরা ব্যাথিত হয়েছি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষের স্বপক্ষে তার আন্তরিকতা এবং সহমর্মিতা আমাদের সব সময় আকৃষ্ট করবে।

ন্যাপ সভাপতির মৃত্যুতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া-ও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো শোক বার্তায় তারা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে কিংবদন্তিতুল্য এ নেতার মৃত্যুতে দেশ হারালো একজন অভিভাবক রাজনীতিককে। তিনি কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানস্বরূপ সরকার ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করলেও তিনি সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন। পদক দিলে বা নিলেই যে মানুষ সম্মানিত হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না।'

এছাড়া দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আসাদুল্লা তারেক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ আরও অনেকে।

/এসটিএস/এমপি/

লাইভ

টপ