এডিসের লার্ভা নিধনে একদিনেই ৯৭৩৬ বাড়ি পরিদর্শন ডিএনসিসি’র!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্টে
প্রকাশিত : ২৩:০৩, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৬, আগস্ট ২৫, ২০১৯

এডিসের লার্ভা নিধনে ডিএনসিসি’র অভিযান

এডিস মশার লার্ভা নিধনে গত এক মাসে এক হাজার ৪০৬টি বাড়ি পরিদর্শন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। একই জনবল নিয়ে বরিবারের (২৫ আগস্ট) অভিযানে ৯ হাজার ৭৩৬টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ২৪ জুলাই থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালসহ ডিএনসিসির নিজস্ব কর্মীদের মাধ্যমে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের প্রথম দিন থেকে গতকাল শনিবার পযন্ত ডিএনসিসি এলাকায় এক হাজার ৪০৬টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। এতে মাত্র ১২০টি বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। অভিযানে ১৩৯টি মামলা ও তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর জরিমানা আদায় করা হয় ৪৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

এছাড়া পরীক্ষামূলকভাব ২০ আগস্ট থেকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘চিরুনি’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযানের প্রথম তিন দিনে ৬৫৮টি বাড়ি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৫৬টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

রবিবার ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই ৩৬টি ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৭৩৬টি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এতে ২৫৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। লার্ভা পাওয়া বাড়িগুলোর সামনে ‘এ বাড়ি/প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়াছে’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ৩ হাজার ১২৩টি বাড়ি ও স্থাপনা থেকে এডিস মশা বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে।

এডিসের লার্ভা নিধনে ডিএনসিসি’র অভিযান

তবে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এডিস মশা নির্মূলে রবিবার সংস্থাটির ৩৬টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়।

এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি ব্লক এবং প্রতিটি ব্লককে ১০টি সাব-ব্লকে ভাগ করা হয়। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা এবং মশককর্মীরা প্রতিদিন একটি করে ব্লকে ‘চিরুনি অভিযান’ চালাবে। এভাবে ১০দিনে ৩৬টি ওয়ার্ডে এই অভিযান পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডেও এই অভিযান চালানো হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক দিনেই ৯ হাজার বাড়ি পরিদ্শন করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু গত এক মাসের যে পরিসংখ্যান সেটি অবশ্যই দুঃখজনক। কারণ একই জনবল দিয়ে যদি একদিন ৯ হাজার বাড়ি পরিদর্শন করা যায়, তাহলে এতোদিন কেন সেই জনবলকে কাজে লাগানো হয়নি। এই তথ্য মানুষকে বিশ্বাস করানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো কোনও কারণে সংখ্যার দিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে যদি গোজামিলের আশ্রয় নেওয়া হয় সেটি দুঃখজনক।’

এদিকেক একই অভিযান পরিচালনা করে আসছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটি গত ১ জুলাই থেকে আজ  পর্যন্ত ৭২ হাজার ২৪৩টি বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করে বলে জানানো হয়েছে। এতে ৪ জনকে কারাদণ্ড, ১৬জন বাড়ির মালিককে সতর্ক করা এবং ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

/এসএস/এএইচ/

লাইভ

টপ