‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অভিন্ন নীতিমালা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৫২, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভিন্ন নীতিমালার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম’ এর মানববন্ধন

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে ঢালাওভাবে বৈষম্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও মিলন চত্বরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক কামরুল হাসান মামুনের পক্ষে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল লিখিত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

মানববন্ধন থেকে অভিন্ন নীতিমালা না করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী বাস্তব নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানান শিক্ষকরা। তারা মনে করেন, ‘এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বৈচিত্রপূর্ণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের ভুল সাধারণীকরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং বর্তমান সরকারেরই গত ১০ বছরের শিক্ষার উন্নয়নকে অস্বীকার করা হবে।’ তাই প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালাটি বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানান শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম মনে করে, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষকদের মান ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পদে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ঠিক করবে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, আবার একই অনুষদের বিভিন্ন বিভাগেরও শিক্ষক নিয়োগে ও প্রমোশন নীতি ভিন্ন হতে পারে।’

এই অভিন্ন নীতিমালাটিকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বায়ত্তশাসনের ওপর চূড়ান্ত আমলাতান্ত্রিক আক্রমণ উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তথাকথিত এই অভিন্ন নীতিমালাটি এক কথায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বায়ত্তশাসনের ওপর একটি চূড়ান্ত আমলাতান্ত্রিক আক্রমণ।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে ইউজিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রণীত এই অভিন্ন নীতিমালাটি নীতিগতভাবে গৃহীত হয়েছে। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে বৈষম্য বিরাজ করছে তা এবং জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫', প্রণয়নের পর শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এই অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধান সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিন্ন নীতি মালায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তারা বিশ্ববিদ্যালয় কি সেটাই বোঝে না? বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্লামেন্ট সম একটা সিন্ডিকেট থাকে, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় নীতি ঠিক করবে। পৃথিবীতে এমন কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেটা অভিন্ন নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত।’

উচ্চ শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতেই এ নীতি।এই কালো চক্রান্ত রুখতে হবে।আমরা শিক্ষক ফোরাম এই অভিন্ন নীতিমালা দৃঢ়কন্ঠে প্রত্যাখ্যান করি।’

মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা সঞ্চালনা করেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিকের মতো শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

/এসআইআর/টিএন/

লাইভ

টপ