শিশু হাসপাতালের ময়লার ভাগাড় বদলে গেলো খেলার মাঠে

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৮:৩৪, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

৩ঢাকা শিশু হাসপাতালের পেছনের সেই চিরচেনা ময়লার ভাগাড়ের চিত্র বদলে গেছে। সরে গেছে মেডিক্যালের বর্জ্য, পানির বোতল, কোল্ড ড্রিংক্সের ক্যান, রক্তমাখা গজ-তুলা। কয়েক মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে সেই ময়লার ভাগাড়। এর পরিবর্তে বদলে সেখানে এখন আশেপাশের কোয়ার্টারে বাস করা চিকিৎসকদের ছেলে-মেয়েরা ক্রিকেট খেলে, পহেলা বৈশাখসহ যে কোনও উৎসবে সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চিকিৎসকেরা। একইসঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর স্বজনরাও বিকেলের দিকে এই মাঠে বেড়াতে বের হন।  

ময়লার ভাগাড়কে পরিচ্ছন্ন একটি মাঠে পরিণত করতে কাজ করেছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের একদল চিকিৎসক। তারা বলছেন, যে কোনও হাসপাতালের অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। মেডিক্যাল বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে না রাখা। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না। শিশু হাসপাতালও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে, তারা চেষ্টা করেছেন বাইরের দিকটা পরিষ্কার করতে, ধীরে ধীরে ভেতরেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন শিশুদের জীবাণুমুক্ত রাখতেও।  

৫

 এই বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিজওয়ানুল এহসান বলেন, ‘হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ছিল রোগী ও তাদের স্বজনদের অজ্ঞতা, অসেচতনতা। ওয়ার্ডের জানালা থেকে সব ধরনের খাবারসহ নানা আবর্জনা ফেলতেন তারা। সেই ময়লা  আর কেউ পরিষ্কার করতেন না। পেছনের মাঠ থেকে ৭০ ট্রাক ময়লা তুলে নেওয়ার পর সেখানে ১০০ ট্রাক বালু ফেলা হয়েছে। এভাবেই সেই ভাগাড় আজ খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে।’  

ডা. রিজওয়ানুল এহসান বলেন, ‘আগে এ হাসপাতালের স্যুয়ারেজ সিস্টেম ভালো ছিল না। সেখানেও কাজ করা হয়েছে। এখন আর শিশু হাসপাতালের সামনে-পেছনে কোথাও স্যুয়ারেজ লাইন খোলা নেই। কোথাও কোনও ময়লা উপচে পড়ছে না, দুর্গন্ধে কাউকে নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে না। নবনিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শাফি আহমেদ মুয়াজের সহযোগিতায় আমরা এ কাজ করতে সফল হয়েছি। তবে, হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর কবীর ও আবাসিক চিকিৎসক শাহীন শরীফ। সবাই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এই ময়লার মাঠের পেছনে কাজ করেছেন।’

৪

হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিশু হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা শিশু হাসপাতালের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কয়েকজন সদস্য। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘ইনডোর আগে নোংরা ছিল। সেসব জায়গায় পরিচ্ছন্নতার জন্য কাজ করা হয়েছে। ফ্লোরে আগে ময়লা থাকতো। হাসপাতালের ওয়ার্ডে বিড়াল ঘুরে বেড়াতো, তেলাপোকা ছিল। সবকিছু পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে, সেসব ধীরে ধীরে করা হবে।’

১

ডা. জহিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘আমরা চেয়েছি, হাসপাতালের সব অনুষ্ঠান করার মতো একটি মাঠ তৈরি করতে। ওই অনুযায়ী গত পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান এখানে করার পরিকল্পনা করি। তাতে সফল হই।’ হাসপাতালটির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকায় এই হাপসাতালের চিকিৎসক-নার্সরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কম হয়েছেন বলেও জানান ডা. জহিরুল ইসলাম।  

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ