নিয়ম না মেনে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের মালামাল বিক্রির অভিযোগ!

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ০৫:৪৫, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৪, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

 রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে কয়েক ট্রাক পুরনো মালামাল সরকারি নিয়ম না মেনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহিদুর রহমান এ অভিযোগ তুলেছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ডা. জাহিদ।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ বুলবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে তিনি কলেজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার করেছেন। যারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন, তারা নিজেদের দোষ ঢাকতে ইনটেনশনালি এ কাজ করছেন।’

ডা.  জাহিদুর রহমান অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ‘অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবীর বুলবুল গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ট্রাক মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। এই মালামাল সরিয়ে ফেলে কীভাবে রেখেছেন বা সরকারি বিধি মতো বিক্রি করেছেন কিনা তা আমাকে জানানো হয়নি, এ কারণে আমি চিন্তিত। মালামালের মধ্যে পুরাতন ডেন্টাল ইউনিট যদি থাকে তার জন্য ভবিষত্যে হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের পুরাতন মালের হিসাব মেলানো কঠিন হবে।’

ডা. জাহিদুর রহমান অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের একান্ত সচিব বরাবরেও দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অধ্যক্ষ সাহেব এখন মালামালগুলো ফেরত দিতে চায়।  যাদের কাছে বিক্রি করেছেন তাদের থেকে এনে ফেরত দিতে চাচ্ছেন। কেন ফেরত দিতে চাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, তিনি বুঝতে পারছেন যে, বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারেরতো একটি নিয়ম রয়েছে, সেখানে নিলাম করে বিক্রি করলে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু উনিতো সেল দিয়েছেন, নিজের মনের মতো করে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

কাদের কাছে বিক্রি করেছেন জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভাষানটেকের ব্যবসায়ী নূর হোসেন, ফারুক এবং হুমায়ূনের কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানতে পেরেছি। আজ আবার তিনি (অধ্যক্ষ) খবর দিয়েছেন, ডাইরেক্টরের ( পরিচালক, হাসপাতাল) যতো মালামাল ছিল, আমরা ভুলে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটা ফেরত এনে দেবো।  কিন্তু কথা হচ্ছে, উনি কয়টা কী নিয়েছেন, কয়টা বিক্রি করেছেন- তার হিসাব তো ঠিকমতো পাওয়া যাবে না, যে মালামাল বের হয়ে গেছে সেটাতো আমি নিতে পারি না। এখন সরকার দেখবে, কয়টা মালমাল বাইরে গেছে। আমি সরকারকে জানিয়েছি, এখন আর আমার দেখার কিছু নাই।’

 হাসপাতালের কিছুতো অধ্যক্ষ বিক্রি করতে পারেন না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, তার কলেজেরটাও তিনি ওইভাবে বিক্রি করতে পারেন না। সরকারের নিয়ম রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির বিষয়ে, নিয়ম মেনে তাকে সবকিছু করতে হবে। যদি সেটা এক হাজার জিনিসও হয়।

এখন যদি আমি এটা না জানাই, অভিযোগ না করি তাহলেতো পরে কথা উঠবে আমাকে নিয়ে, হাসপাতালের মালামালের কথা বলবে, পরিচালক বিক্রি করেছে। আমাকে না জানিয়ে কেন হাসপাতালের মালামাল বিক্রি করা হলো, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আমাকে জানিয়েছেন, ‘অল্প টাকার মালামাল ছিল, এ জন্য তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কিছু করেননি।’ কিন্তু তিনিতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনও মালামাল সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে বিক্রি করতে পারেন না, সেটা যতো কম মূল্যেরই হোক না কেন।

ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. হুমায়ূন কবীর বুলবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডেঙ্গু পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে কলেজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা হয়েছে। লেডিস হোস্টেলের পেছনে থাকা মালামালগুলো সরানো হয়েছে। একটা মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফাঁদ তৈরি করেছে, যা কিনা মিথ্যা এবং ভেরি মাচ ইনটেনশনাল।

কিন্তু মালামাল বিক্রি করতে হলে সরকারি নিয়মে করতে হবে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনও মালামাল সেখানে ছিল না, কিছু প্লাস্টিকের ভাঙা অংশ পরে ছিল। আমার কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান, সেখানে ময়লা পরিষ্কার হবে এটাই স্বাভাবিক।

অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে আমি এখানে যোগদান করার সময় যে চক্র প্রতিহত করতে চেয়েছিল তারাই এটা করেছে, এটা কেবলই একটা ফাঁদ। আমার মনে হয়, পরিচালক সাহেবের নিজের কোনও ঘাপলা রয়েছে, সে ঘাপলা কাভার করার জন্য তিনি ইনটেনশনালি এটা করেছে, উনি একটা ছুঁতো তৈরি করলো-এটা আমার ধারনা’।

এদিকে, ডেন্টাল কলেজের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউন   কে জানায়, খুব বেশি টাকার না, নয়তো এক থেকে দেড় লাখ টাকার মালামাল ছিল। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে সরকারি নিয়ম না মানা। তিনি নিয়ম না মেনে মালামালগুলো বিক্রি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের  স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, আজতো অফিস করিনি। কাল হয়তো পাবো, তখন বিষয়টি জানতে পারবো।

 

 

/টিটি/

লাইভ

টপ