ভিকারুননিসায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি: জড়িতদের খুঁজে বের করতে ফের তদন্ত দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:০০, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৫, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ফাইল ছবি)

চলতি বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে আবারও তদন্ত দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত আবেদনে তিনি এ দাবি জানান।

আবেদনে হাসিনা বেগম উল্লেখ করেন, ‘অতিরিক্ত ভর্তির সঙ্গে আমি জড়িত নই। ভর্তি ফরমে আমার স্বাক্ষরও নেই। ভর্তি প্রক্রিয়ায় তিনজন অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন। আর পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ। তদন্ত করে প্রমাণ হয়েছে ৪৪৩ জন অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু ওই তদন্তে আমার কোনও বক্তব্যই নেওয়া হয়নি।  অথচ শুধু আমাকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের কোনোভাবেই দায়ী করা হয়নি।’

এ ব্যাপারে হাসিনা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ছাড়া আরও দুইজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। আমাকে ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। অথচ শুধু আমাকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সে কারণেই আমি পুনঃতদন্তের দাবি করেছি।’

মন্ত্রণালয় সূত্র ও হাসিনা বেগমের আবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ৪৪৩ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট তখনকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। অথচ ভর্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।  এ ছাড়া, ৪৩৩ জন ভর্তির পর আরও তিন জন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ভর্তি করা হয়েছে; যা স্বীকার করেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম।

লিখিত আবেদনে হাসিনা বেগম জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়, যা ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় দফায় আমি দায়িত্ব নিই ১২ জানুয়ারি। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন কেকা রায় চৌধুরী। আর আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে নেন ফেরদৌসী বেগম। আবেদনে আরও জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ফেরদৌসী বেগমের দায়িত্ব পালনকালে গভর্নিং বডির সভাপতি ওই বছরের মে মাসে দুইজন শিক্ষার্থী ভর্তি করেন। এরপর ৮ আগস্ট অষ্টম শ্রেণিতে আরও একজন ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে কেকা রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমি ভর্তি ফরমে সই করিনি। ওই সময় নরমাল এবং ওয়েটিংয়ে ভর্তি হয়েছে। আমার সময় অতিরিক্ত ভর্তি হয়নি।’

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সময় ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের হাতে। পরে ১২ জানুয়ারি হাসিনা বেগম দায়িত্ব পেলেও তিনিও ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়ে পুরো অন্ধকারে ছিলেন। সে কারণে ভর্তি ফরমে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান হাসিনা বেগম।

 

/এসএমএ/এমএ/

লাইভ

টপ