‘যেসব পণ্যে পারদ রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০৭, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

single pic template-1মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক পদার্থ পারদের ব্যবহার শুধু আইন করে বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, ‘যেসব পণ্যে পারদ রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। ক্রমেই পারদের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এটি বন্ধে সচেতনতা দরকার। এ ব্যাপারে উৎপাদনকারী ও ভোক্তাদেরও সতর্ক হতে হবে। পারদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সবার সজাগ থাকতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পরিবেশ অধিদফতর ও  এসডোর যৌথ আয়োজনে 'স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পারদযুক্ত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব' শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মিনামাটা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আমরা পারদ-বিষ প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদেরকে উৎস থেকেই পারদ নিষিদ্ধ করার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, পারদযুক্ত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করুন।’

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অন্যরা বলেন, ‘পারদ সমস্যাটি আরও প্রকট না হওয়ার আগে পণ্যগুলোতে এর ব্যবহারের জন্য নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে তার আগে আমাদের পারদযুক্ত পণ্যগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পারদ ব্যবহার করা হয় এমন পণ্য ব্যবহারে জনগণকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে পণ্যগুলোতে পারদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে পণ্যে পারদ ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার জন্য, পারদের ব্যবহারের মাত্রা নির্ণয় এবং নিরাপদ নিষ্কাশন বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

এসডোর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ ও ১৮ সালে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমগুলোর বেশির ভাগের মধ্যেই পারদের মাত্রা রয়েছে ৭১১ থেকে ১৬ হাজার ৩৫৩ পিপিএম। যা প্রস্তাবিত সর্বাধিক পারদ ব্যবহারের মাত্রা এক পিপিএমের চেয়ে অনেক বেশি।

কর্মশালায় এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক ড. মাসুদ ইকবাল মো. শামীম, বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাসেম, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

/এইচএন/এমএএ/

লাইভ

টপ