ঢাকার বাইরের রোগীর কারণেই কমছে না ডেঙ্গু!

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২২:২১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

9স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৭৫০ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতে রোগী সংখ্যা ২৩৭ আর ঢাকা শহরের ছাড়া ঢাকাসহ আট বিভাগে রোগী সংখ্যা ৫১৩ জন।

চলতি মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজারের নিচে নেমে এসেছে। যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাতে রোগী সংখ্যা গ্রাজুয়েলি কমতে থাকলেও ঢাকার বাইরে রোগী সংখ্যা কমছে না। মূলত ঢাকার বাইরের রোগীর কারণেই কাঙ্ক্ষিত রোগীর সংখ্যা নেমে আসছে না বলেই অভিমত সংশ্লিষ্টদের। এদিকে, ঢাকার বাইরে রোগী সংখ্যা কেন বেশি হলো, তা জানতে কাজ করছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( আইইডিসিআর)।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য থেকে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর আক্রান্ত হওয়া ৬৩৪ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ২২১ জন আর ঢাকার বাইরে ৪১৩ জন, ১০ সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হওয়া ৭৫৩ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ২৯৪ জন আর ঢাকার বাইরে ৪৫৯ জন, ৯ সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হওয়া ৭১৬ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ৩০০ জন আর ঢাকার বাইরে ৪১৬ জন, ৮ সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হওয়া ৭৬১ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ৩১৪ জন আর ঢাকার বাইরে ৪৪৭ জন, ৭ সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হওয়া ৬০৭ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ২৩৩ জন আর ঢাকার বাইরে ৩৭৪ জন এবং ৬ সেপ্টেম্বরের আক্রান্ত হওয়া ৭৯৩ জনের ভেতরে ঢাকার ভেতরে ৩২৫ জন আর ঢাকার বাইরে ৪৬৮ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচলক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে না, কেবল ঢাকার বাইরের রোগী সংখ্যার কারণে।’

ঢাকার ভেতের রোগী সংখ্যা একেবারেই কমে যাচ্ছে এবং সেটা ২০০ থেকে ৩০০র মধ্যে থাকছে মন্তব্য করে ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা আজও যশোরে ৭৪ জন, যা গতকাল ছিল ৪৮, পরশু ছিল ৭৪। যশোরের আপডাউনের কারণে নতুন আক্রান্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ওঠা-নামা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়াতে আজ (১২ সেপ্টেম্বর) রোগী সংখ্যা অনেক বেড়েছে, ৩৬ জন, মানিকগঞ্জে ৩১ জন, আর বরিশালে তো আছেই।’

হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ঢাকা শহর ছাড়া যে ১৩টি জেলা রয়েছে তাতে করে গত ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন। আর  এ ১৩ জেলার মধ্যে  এ জেলাতেই সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৯৮ জন। বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যাও সর্বোচ্চ ১১৮ জন।

আবার খুলনা বিভাগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জন, তার মধ্যে কেবল যশোরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ জন।  চলতি বছরে যশোরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৮৭ জন, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৩৬ জন। এর পর রয়েছে কুষ্টিয়া, সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন, মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫৯ জন আর বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৯২ জন।

এদিকে, বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বরিশালের ছয় জেলাতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৮৫১ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২১২ জন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘২০১৯ সালে বিশ্বের ১২৮ টি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে কেউই অনুমান করতে পারেনি যে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু এভাবে ছড়িয়ে পরবে।’ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টটিটিউট (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরাজাদী সেব্রিনা ফ্রোরা বলেন, ‘ঢাকার বাইরে অ্যালবোপিকটাসের সংখ্যা সবসময় বেশি থাকে। এডিস এজিপ্টি হচ্ছে প্রাইমারি ভেক্টর, আর অ্যালবোপিকটাস হচ্ছে সেকেন্ডারি ভেক্টর।’

প্রাইমারি ভেক্টর যত র‌্যাপিডলি রোগ ট্রান্সমিট করে সেকেন্ডারি ভেক্টর তত র‌্যাপিডটি ট্রান্সমিট করে না মন্তব্য করে অধ্যাপক মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, ‘একটি এডিস এজিপ্টির তুলনায় এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার সংক্রমণের ক্ষমতা পাঁচগুণ কম।’ এজন্য বাঁশের কোটর, কচু গাছ, কলাগাছ, নারকেলের পাতার কাণ্ড, নারকেলের খোসার মতো জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ