জবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

Send
সুবর্ণ আসসাইফ, জবি
প্রকাশিত : ২০:৪১, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৫, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯





চাঁদা দাবির পর দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছেজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামনে টিএসসির দোকানগুলো থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির কর্মীদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন দোকানিরা। রবিবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) ওই ঘটনার পর থেকে দোকানিরা দোকান বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

টিএসসির দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা তাদের কর্মীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। দোকান বসানোর সময় প্রতিটি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর এলাকাভিত্তিক নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এতে করে টিএসসিতে চাঁদাবাজি আরও বেড়ে যায়।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটির শীর্ষপদে রদবদলের পর, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন সাবেক সভাপতি-সেক্রেটারি ও তাদের অনুসারীরা। পরদিন মিষ্টি খাওয়ার নাম করে টিএসসিতে যান সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের একান্ত আস্থাভাজন কর্মী তরিকুল রিমন (অছাত্র), অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের (অছাত্র) মাসুম বিল্লাহ, নবম ব্যাচের আলমগীর মুন্সী, বাংলা বিভাগের সপ্তম ব্যাচের (অছাত্র) সাইফ আহমেদ লিখন, ম্যানেজমেন্ট দশম ব্যাচের সামিউল তাছাহাব শিশির এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রাসেলের একনিষ্ঠ কর্মী ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের (অছাত্র) আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগের নবম ব্যাচের কামরুল ইসলাম (বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত)-সহ ১২-১৫ জন। এসময় তারা দোকানদারদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকানিদের কয়েকজনকে হুমকি ও মারধর করা হয়। এছাড়া খিচুড়ির পাতিল ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ক্যাশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিবাদে দোকানিরা ধর্মঘট ডেকেছেন। দোকান বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দোকানি বলেন, ‘রবিবার ছাত্রলীগের কয়েকজন টিএসসিতে এসে প্রতি দোকান থেকে ২০ হাজার করে এবং সিংগারা-সমুচার দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। এত টাকা দিতে পারবে না জানালে দোকানদার ইমনকে পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করেন তারা। তাকে রক্ষা করতে এলে আরও দুজন দোকানি মারধরের শিকার হন। এরপর দোকানের ক্যাশ হাতিয়ে সব দোকান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং সিগারেটের প্যাকেট ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি খিচুড়ির দোকানের ক্যাশে টাকা না থাকায়, পাতিল নিয়ে যান তারা। পাশের বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশ টাকার পাশাপাশি ছয় হাজার টাকা বিকাশ করে নিয়ে যাওয়া হয়।’

চাঁদা দাবির পর দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছেঅনুসন্ধানে জানা যায়, টিএসসিতে ৯টি চায়ের দোকান রয়েছে। এছাড়া চারটি খিচুড়ির, একটি সমুচা-সিংগারার, একটি শুকনা খাবারের,একটি শরবতের ও একটি বিকাশ-ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে মূল ফটকের পাশে সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ঝালমুড়ি, চটপটির দোকানসহ হালিমের দোকানও বসে। চায়ের দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা হিসাবে মাসে ৪০ হাজার ৫শ’, সমুচা দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ হিসাবে মাসে ১৫ হাজার, খিচুরি দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০ টাকা হিসাবে ৪৮ হাজার ও রিচার্জের দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মাসিক তিন হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এছাড়া মূল ফটকের সামনের দোকান থেকেও নেওয়া হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এই হিসাবে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলে আসছেন বলে জবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

জবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার কর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। টিএসসিতে যারা চাঁদাবাজি করছে, তারা এক সময় আমার কর্মী ছিল, এখন নেই।’

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ যারা জড়িত তাদের নাম পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেবো। আমি সভাপতির সঙ্গে আছি। যেকোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আমরা প্রশ্রয় দেবো না। প্রশাসনকেও বলবো যেন কোনও ছাড় দেওয়া না হয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘র‌্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। খুব শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।’

জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘টিএসসিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স রয়েছি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেবো।’

/আইএ/

লাইভ

টপ