ভুক্তভোগীকে কল করে থানায় সেবার মান জানতে চাইবে ডিএমপি সদর দফতর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩১, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৮, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কোনও থানায় জিডি বা মামলা হওয়ার পর ডিএমপি সদর দফতর থেকে ভুক্তভোগীকে ফোন করা হবে। জানতে চাওয়া হবে থানার সেবার মান কেমন ছিল, আর্থিক লেনদেনে বাধ্য হয়েছেন কিনা, আচরণ ও ব্যবহার কেমন ছিল, আপনাকে কেমন সহযোগিতা করেছে, থানার সেবা পেতে কোনও হয়রানি হতে হয়েছে কিনা? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মামলা তদারকি করছে কিনা? যদি কেউ সেবা প্রত্যাশীর সঙ্গে খারাপ ও হয়রানিমূলক আচরণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থানায় সেবার মানোন্নয়নের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শহীদ এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে ফোর্সের বিশেষ কল্যাণ সভায় এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রত্যেক থানায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে জিডি ও মামলা সম্পর্কে ২টি ছক পাঠানো হবে। প্রতিদিন বেলা ১২টার মধ্যে এই ছকে জিডি ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে পাঠাতে হবে। বিকাল থেকে আমার অফিসের একটি টিম জিডিকারী ও মামলাকারীর কাছে মোবাইল করে থানার সেবার মান সম্পর্কে জানতে চাইবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি থানার প্রকাশ্য স্থানে বড় সাইনবোর্ডে থানা এলাকার এসি, এডিসি, ডিসির নম্বর দেওয়া থাকবে। থানার যে কোনও অনিয়ম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে নগরবাসীকে অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশ কমিশনারকে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করছেন একজন কর্মকর্তা

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের অনেক ভালো কাজ রয়েছে। পরিবার রেখে মানুষের নিরাপত্তায় দিনের পর দিন, রাতের পর রাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ঈদ, পূজা বা অন্য ধর্মীয় উৎসবসহ যে কোনও জাতীয় উৎসবে আমরা পরিবারকে সময় না দিয়ে মানুষের নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। এমন অসংখ্য ভালো কাজ রয়েছে। এরপরও কিছু পুলিশ সদস্যের অতি লোভে বাহিনীর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আপনি এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে আপনার সন্তান মানুষের কাছে আপনার পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। আমরা জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে কাজ করবো।

বিশেষ কল্যাণ সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কমিশনার বলেন, আমাদের ফোর্সের সর্বাত্মক কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ডিএমপি’র শিক্ষাবৃত্তি থেকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের কোনও সদস্য ও তার পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে ডিএমপি’র কল্যাণ তহবিল হতে সহায়তা করা হয়। আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবার ন্যায্য সুবিধা দিতে চাই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে নিম্ন পদস্থ ফোর্সের দূরত্ব কমাতে কাজ করবো। মানুষের জন্য ভালো কিছু করলে চূড়ান্ত বিচারে আপনি পুরস্কৃত হবেন।

কমিশনার বলেন, তোমরা কোনভাবে মাদকের সঙ্গে যুক্ত হবে না ও মাদকাসক্ত হবে না। যদি কেউ মাদকাসক্ত হয়ে থাকো তাহলে নির্ভয়ে তোমার ডিসিকে জানাও, আমরা তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। এরপরও যদি কেউ মাদকাসক্ত হও, তাহলে ডোপ টেস্টে প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত হলে তাকে জেল খাটতে হবে।

এর আগে সভায় আসা পুলিশ সদস্যদের সমস্যার কথা শোনেন ও সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বস্ত দেন ডিএমপি কমিশনার। এসময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারবৃন্দ, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারবৃন্দ, উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার ৭৫০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

/আরজে/টিএন/

লাইভ

টপ