র‍্যাবের সাঁড়াশি অভিযানে ৪টি ক্যাসিনো সিলগালা, ১৮২ জনকে কারাদণ্ড

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৯, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের চার দিনের মাথায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি ক্যাসিনোতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় পরিচালনাধীন একাধিক ক্যাসিনো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে মোট ১৮২ জনকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে বিপুল অংকের টাকা, মদ ও বিয়ারসহ জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

ক্যাসিনোতে আটককৃতদের একাংশ

অভিযানে সিলগালা করে দেওয়া ক্যাসিনোগুলো হলো, ফকিরাপুলের ‘ইয়ংমেন্স ক্লাব’ ক্যাসিনো, বনানীর ‘গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ’ ক্যাসিনো, গুলিস্তানের ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র’ ক্যাসিনো এবং মতিঝিলের আরামবাগে ‘ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব’ ক্যাসিনো।

র‍্যাবের এই অভিযান শুরু হয় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে ‘ক্যাসিনো’ চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করে র‍্যাব। এর আগে ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালানো হয়।

ইয়ংমেন্স ক্লাবে আটক করা ১৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ৩১ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের ১৬ জন ক্যাসিনোর কর্মী। বাকিদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে র‍্যাব। অভিযানে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ও বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আটক স্টাফদের মধ্যে দুই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইয়ংমেন্স ক্লাবের পাশে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবেও অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। ক্লাবটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ পরিচালনা করেন। তার সহযোগী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি মোল্লা কাউসার। এখানে জুয়ার বোর্ড রয়েছে ১২টি। এখান থেকে মদ, বিয়ার ও বিপুল অংকের টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৩ এর এএসপি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জুয়া খেলার নগদ টাকা ১০ লাখ, মদের বোতল, তাস উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণের আংটি, চেইন পাওয়া গেছে। যা জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।’

একই সময়ে রাজধানীর গুলিস্তানের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় জুয়ার বোর্ডসহ মাদক দ্রব্য পাওয়া গেছে। ক্লাবটি থেকে ৩৯ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র‍্যাব-৩ অধিনায়ক শাফিউল্যাহ বুলবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ক্লাব থেকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, কষ্টিপাথর, মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবটিতে থাকা ৭টি জুয়ার বোর্ডের মধ্যে দুটি ভিআইপিদের সংরক্ষিত ছিল।

র‍্যাব জানায়, এই ক্লাবটিতে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ক্লাবটির পরিচালনা বোর্ডের কিছু সদস্য এর জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। জুয়ার পাশাপাশি ক্লাবটির ভেতরে মদ-বিয়ার ইত্যাদির বেচাকেনা চলতো। কথিত ভিআইপিরা এই ক্লাবে জুয়ার আসরে বসতেন। তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

একই দিনে বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারের ‘গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ’ নামক ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব-১। অভিযানের খবর পেয়ে ক্যাসিনোর লোকজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম। তিনি বলেন, অভিযানের সময় ক্যাসিনোর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাসিনোটির মালিককে খোঁজা হচ্ছে বলে র‍্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন। 

আরজে/এনএল/এএ/

লাইভ

টপ