বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রশাসন-শিক্ষার্থী মুখোমুখি ‘সমাধানের বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হতে পারে না’

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৯:০৬, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪৮, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

বশেমুরবিপ্রবি`র আন্দালনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাচলমান সংকটের সমাধান না করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার ঘটনাকে যেকোনও উপায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের কৌশল হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনে বসার তিনদিন পার হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। দায়িত্বশীল কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায়ও বসেননি। শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা কোনোভাবেই বিদ্যমান সংকটের সমাধান হতে পারে না। এদিকে,  প্রশাসনের ভেতরের সূত্র বলছে, শনিবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা ঘটেছে প্রশাসনের নির্দেশেই।

আর এর দায় স্বীকার করে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইতোমধ্যে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের মদতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। নৈতিক বিবেচনায় এরপর আর দায়িত্বে থাকা যায় না।

প্রসঙ্গত, উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সকাল ১০টার মধ্যেই সব শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেয়।  

তবে, সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাতটা) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়েননি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যরা বলছেন, সমস্যা সমাধান না করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া যৌক্তিক নয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিরোধী পক্ষ না ভেবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসারও পরামর্শ দেন তারা। তবে, একাধিকবার মোবাইলফোনে কল দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা প্রক্টরের  সাড়া পাওয়া যায়নি।

বশেমুরবিপ্রবি বন্ধের আদেশ

এরআগে, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে দুর্বৃত্তরা। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বলছেন, হামলাকারীরা স্থানীয় ‘ভাড়াটে’। প্রশাসনের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করছেন।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ ধরনের নেতিবাচক কোনও ঘটনা ঘটেনি। এটি অনভিপ্রেত।’

মূল সমস্যা সমাধান না করে বন্ধ করে দেওয়া সমাধান না উল্লেখ করে আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তো একদিন খুলতেই হবে। বিষয়টি প্রশাসনের সমাধান করা উচিত। ছাত্রীকে বহিষ্কারের কোনও যৌক্তিক কারণ নেই। বিষয়টি উপাচার্যের সমাধান করা উচিত ছিল। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি, সেখানে কিছু লুকাতে পারবেন না। তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন, সেটি শিক্ষকসুলভ নয়। আহমদ ছফার মতোই বলতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র থমকে দাঁড়ায়।’ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে হামলা চালানোর নিন্দা জানান তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বিরোধী পক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি উদ্ভূত হতে পারে কিন্তু শিক্ষকদের উচিত—তাদের জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধী অবস্থানে না গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা। কোনও রকম বহিরাগত বা পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঠেকানো সম্ভব নয়।’

বশেমুরবিপ্রবি-তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

আর এ ঘটনায় বশেমুরবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীর প্রশাসনের ওপর দায় দিয়ে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। সেটা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। সেই আন্দোলন ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হলো। তাতেও হলো না, বহিরাগতদের ঢুকিয়ে ন্যক্কারজনক হামলা ও বীভৎস অবস্থা তৈরি করা হলো প্রশাসনের নির্দেশেই। এরপর নৈতিকভাবে আমি প্রক্টরের দায়িত্ব থাকতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘আজকে বহিরাগত দিয়ে ছাত্র পেটালে সেই বহিরাগতরা একদিন আমাকেও পেটাবে না তার নিশ্চয়তা কী?’

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: 

আন্দোলন ঠেকাতে বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ  

যেসব অভিযোগে বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন

 

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ