ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পথে

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২১:৪৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৩, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

মাসিক-বিবরণীচলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত যে হারে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছিল, সেপ্টেম্বরে এসে সেই হার কমেছে। যদিও আগস্টের মাঝামাঝি এসে সেপ্টেম্বরকে ডেঙ্গুর ‘পিকটাইম’  হিসেবে ধরা হয়েছিল। ওই সময় বলা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেপ্টেম্বরের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও দেখা গেলো, ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। বরং ‘অনেকটা’ই নিয়ন্ত্রণের পথে বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা) নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩০ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩২ জন আর ঢাকা মহানগরীর বাইরে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৮ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী,  স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন,  পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে, নিয়ন্ত্রণের পথে আসছে ডেঙ্গু। কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, এরমধ্যে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন মারা গেছে। জুলাই মাসে ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।  আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬ জন ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। সবশেষে সেপ্টেম্বরের প্রথম তিন সপ্তাহে ১৩ হজার ৭৩০ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন দুই হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে ঢাকার ১২টি সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৭৫ জন, আর রাজধানী ঢাকার বাইরে ঢাকাসহ আট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন এক হাজার ২২৪ জন। আবার ঢাকার ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০২ জন,  ঢাকার ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩০ জন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করবো না বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা বলতে পারছি, ডেঙ্গু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে, নিয়ন্ত্রণের পথে আসছে।’

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা আরও বলেন, ‘এখন পুরো বছরজুড়েই কিছু কিছু ডেঙ্গু রোগী দেখা যায়। তাই বছরজুড়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে আমাদের। আর সে লক্ষ্যেই আগামী অক্টোবর মাসে এডিস মশা নিয়ে আরেকটি জরিপ হাতে নেব আমরা। তবে তার ফাইনাল প্ল্যান এখনও সম্পন্ন করতে পারিনি।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘ঢাকার ভেতরে নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা যেভাবে কমছে, সেভাবে ঢাকার বাইরে রোগী সেভাবে কমছে না। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে খুলনা আর বরিশাল বিভাগে রোগী আশানুরূপ কমছে না। যদিও সেটা আগের মতো বেশি নয়।তবে, কুষ্টিয়ায় আবার একটু বাড়ছে।’

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অবস্থা কন্ট্রোলে, বেশ ভালো। গতকাল ও আজ নতুন কোনও রোগী নেই। এমনকী আইসিইউতে বা সিরিয়াস অবস্থার কোনও রোগীও নেই। ফেনী, নোয়াখালীতে হাতেগোনা কয়েকজন থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে রোগী নেই একেবারেই।’

এদিকে, ডেঙ্গু রোগী অনেক কমেছে মন্তব্য বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোগী অনেক কমে গেছে। হাসপাতালসহ সব জায়গায় রোগী কম পাচ্ছি।’ আগামী কয়েকদিন রোগী সংখ্যা আরও কমে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ