আবরার হত্যার বিচার চেয়ে সরব ফেসবুক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩৬, অক্টোবর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৪, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটে) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নিহতের ঘটনায় ফেসবুক ব্যবহারকারী  শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে আবরারের লাশ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো।

আবরারকে কোথায় ডেকে নেওয়া হয়, কখন ডেকে নেয়, কারা ডেকে নিয়ে গিয়েছিল— সবকিছুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। আবরারের সহপাঠীদের দাবি— ‘ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসই কাল হয়েছে তার। তাদের দাবি, এ হত্যার বিচার করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরারের অপরাধটা কী? আমি তো বলবো আরেকটা বিশ্বজিতের ঘটনা ঘটলো। পার্থক্য হলো— বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আর আবরারকে বুয়েটের হলে। এছাড়া তো আমি কোনও পার্থক্য দেখি না। দুজনকেই শিবির সন্দেহে বর্বরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। দুজনই সাধারণ গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা। আচ্ছা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পিটিয়ে ছাত্রহত্যার অধিকার তো কেউ কাউকে দেয়নি। কারও অপরাধ থাকলে পুলিশ, প্রশাসন আছে কেন? আমি বিশ্বজিতের মতো আবরার হত্যারও বিচার চাই। কারা এই হামলাকারী খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’

প্রবাসী ফারাবি মাহমুদ লিখেছেন— ‘আমি ছাত্র থাকা অবস্থায় স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে মাইর খাওয়ার থ্রেট খাইছি। আমার ইমিডিয়েট জুনিয়র ব্যাচের ছাত্র স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে মাইর খাইছে। আর আমার হলের ছয় বছরের জুনিয়রকে পিটিয়ে মেরেই ফেললো!
জানি, বিচার নাই, তবুও বিচার চাই! চিৎকার করে বিচার চাই।’

বোস্টন সায়েন্টিফিকের প্রকৌশলী চমক হাসান পরিচিত ছিলেন আবরারের। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লাশ হয়ে গেলো বুয়েটের ছেলেটা। আবরার ফাহাদ। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ২০১৭ ব্যাচ। এবার দেশে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল ওর সঙ্গে। বলেছিল, ভাইয়া আমি আপনার স্কুলে ছিলাম— কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে, এখন আপনার ডিপার্টমেন্টে। আমার স্কুলের আমার ডিপার্টমেন্টের সেই ছেলেটা খুন হয়েছে শেরে বাংলা হলে। সন্ধ্যা ৭-৮টার দিকে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল ছাত্র* তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। রাত দুইটার দিকে হলের সিড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে তার লাশ। সংবাদ মাধ্যমে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। সিসিটিভির ফুটেজে নাকি সমস্যা আছে বলা হয়েছে। কেউ ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে এইটুকু নিশ্চিত।আমি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজার স্ট্যাটাস— ‘বাংলাদেশ ও কাশ্মিরে ভারতের নানা আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরব ছিলেন আবরার।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর্জা তাসলিমা সুলতানা লিখেছেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টর্চার সেলের এবং ‘মজা করার’ নামে নানান কিসিমের টর্চারের অনুমোদন কি দিয়ে রাখিনি আমরা?!’’

উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত জাহিদ হোসেন লিখেছেন, ‘আবরার হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার ভেতর এই রাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসবে। দেখা যাক। চোখ খোলা থাক। দাবি থাক জোরালো অটুট।’

/ইউআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ