আবরারকে কোলে করে করিডোর পার করেন চারজন (ভিডিও)

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩১, অক্টোবর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫২, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

আবরারকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের চারজন কর্মী

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ (ভিডিও) পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ অক্টোবর) একটি সূত্রের মাধ্যমে এই ফুটেজ বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে।

আবরারকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের চারজন কর্মীফুটেজে দেখা যায়, নিচতলার একটি করিডোর ধরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবরারকে ‘চ্যাংদোলা’ করে তিন জন শিক্ষার্থী নিয়ে আসছেন। এদের একজন তাকে পেছন থেকে ধরে রেখেছেন, আর অন্য দুজন তার দুই পা ধরে করিডোর অতিক্রম করছেন। এছাড়াও একজন তাদের পেছনে আসছেন। এ ফুটেজে এদের পেছনেও আরও ৬ জনসহ মোট ১০ জনকে দেখা গেছে।

আবরারকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের চারজন কর্মী

ফুটেজ দেখে বোঝা যায়, এটা রবিবার দিনগত রাত ১টা ১৪ মিনিটের ঘটনা। লম্বা করিডোরের শেষ মাথার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এটি। এর পাশেই বাঁক নিয়েছে বারান্দাটা। করিডোরে আর কেউ নেই। আলো-আঁধারির মধ্যে একটা ছেলে প্রথমে দৌড়ে এসে দেখেন করিডোরে আর কেউ আছে কিনা। ফাঁকা দেখে তিনি মোবাইলের আলো জ্বেলে সিগন্যাল দেন। এরপর তিন জন ছেলে আবরারকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে আসেন। আবরার তখন একেবারেই নিস্তেজ। তাকে বহনকারী তিন ছাত্রের পেছনে আরেকজন। আরও পেছনে হেঁটে আসেন পর পর ৬ জন। সবার মুখে ভয়। তবে তারা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলেন তারপরও। তারা শেরেবাংলা হলের ওই করিডোরে এসে বাঁক নিচ্ছেন। 

ভিডিও বিশ্লেষণ করে এবং বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবরারকে বহনকারী কালো টি-শার্ট পড়া ছাত্রলীগ কর্মীর নাম নুয়াজ। তিনি ওই হলের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার পাশে সংগঠনটির বুয়েট শাখা কমিটির সদস্য মুনতাসির আল জেমি একই হলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। আবরারের পেছনে আসা ছাত্রের নাম এহতেশামুল রাব্বি তানিম। ওই শাখা সংগঠনটির সদস্য তিনি এবং একই হলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। একেবারে পেছনের জন ইফতি মোশাররফ সকাল। একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ও বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে এদের পেছনে আসা বাকি ৬ জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় ওভাবে ফেলে না দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো আবরার বেঁচে যেতে পারতেন।

আবরারকে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছনে ছিলেন এই তিন জন

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (রাব্বি)-কে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার কিছু নেতাকর্মী রবিবার ( ৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর দিনগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আবরার ওই স্ট্যাটাসটি দেওয়ার কারণে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর বুয়েট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আবরারকে ডেকে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ সন্দেহ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। এরপর তাকে বেদম মারধর করা হয়। রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের দোতলা ও একতলার মধ্যবর্তী সিঁড়ির পাশে পাওয়া যায় আবরারের মরদেহ।

এদিকে, আবরারের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মারা যান আবরার।

এ হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আর বুয়েট ছাত্রলীগের ৯ জন নেতাকে এখন পর্যন্ত আটক করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এ ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/এসজেএ/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ