বুয়েট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি আসকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৩, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৪, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

আবরার ফাহাদআবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সেজন্য সংগঠনটি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। বুধবার (৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবির কথা জানানো হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো এমন নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পেটানো হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে হলে যান পুলিশ সদস্যরা। তবে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পুলিশকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে বসিয়ে রাখে। এরপর আববারকে উদ্ধারে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে এক ঘণ্টা বসে থেকে ফিরে যায় তারা। দ্বিতীয়বার যখন পুলিশ হলে যায়, তখন আবরার আর বেঁচে নেই। শেরেবাংলা হলের একাধিক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, পুলিশ সময়মতো তৎপর হলে আবরারকে হয়তো বাঁচানো যেত। শেরেবাংলা হলে পুলিশ গিয়ে ফিরে আসার কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেছেন পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামাল হোসেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘসময় ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ভিসিকে আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা দাবি করেন, ৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহি না করা পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। দাবির মুখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সাইফুল ইসলাম ওইদিন তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। ভিসির এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের বিভিন্ন হলে বেশ কিছু কক্ষ ছাত্রলীগের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়টিও এক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

/জেইউ/এনআই/

লাইভ

টপ