বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার চাপিয়ে দেবে না: শিক্ষামন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩০, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৪, অক্টোবর ১০, ২০১৯

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি (ফাইল ছবি)বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার চাপিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট-২০১৯’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি তোলেন।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, আমাদের দেশে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তেই কোনও ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নেই। বুয়েট যদি মনে করে সেই রকম সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। তাদের স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, সিন্ডিকেট রয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিভিন্ন বডি রয়েছে, সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের দিক থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় এটি নয়। আমরা তা মনে করি না।’

বুয়েটে শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের নামে টর্চার সেলে নির্যাতন করার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। আগে তো ছাত্রলীগের অস্তিত্বই ছিল না। আমি যতদূর জানি, বুয়েটে ছাত্রলীগ যেমন আছে, তেমনি অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনও খুব শক্তিশালী; দীর্ঘদিন থেকেই তারা অনেক শক্তিশালী।’

বুয়েট ভিসি অপসারণের দাবির বিষয়ে দীপু মনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী একজন শিক্ষকের কাছে সন্তানতুল্য। সেই শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাহলে অবশ্যই যেখানে কথা বললে, যাদের সঙ্গে কথা বললে, যেভাবে আওয়াজ তুললে সেটি বন্ধ হবে, আসলে সেটি হওয়া উচিত ছিল তো প্রথম কাজ। আমার মনে হয় না সেটি আগে হয়েছে।’

একই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ওনার (ভিসি) সময় আছে আর কয়েক মাস। উনি থাকবেন কি থাকবেন না, তাকে অপসারণ করা বা না করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। আমি বলছি—যারা এখন এই দাবি তুলছেন, এতদিন কেন তারা এ দাবি তোলেন নাই? আগে কেন তারা আমাদের এ বিষয়ে জানাননি?’

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন উপস্থিতি ছিলেন।

/এসএমএ/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ