ভবিষ্যতের নির্যাতন বন্ধেই আন্দোলন বুয়েট শিক্ষার্থীদের

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৬:৫৪, অক্টোবর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২১, অক্টোবর ১১, ২০১৯

বুয়েট

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার পর থেকে বিচারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস। এই ঘটনার বিচার, অপরাধীদের স্থায়ী বহিষ্কার ও বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ অক্টোবর) আল্টিমেটাম দিয়ে ১০ দফা দাবি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উপাচার্যের দেখা মেলেনি। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) তাকে আবারও ২৪ ঘণ্টা সময় দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে এধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের আর একটি ঘটনাও যাতে না ঘটে সেই নিশ্চয়তা চাই আমরা। সহপাঠী আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি আমাদের রয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলন সেসব দাবিতে, যেসব পূরণের মধ্য দিয়ে ক্যম্পাসে নির্যাতন নিপীড়নের ভয়াবহতা বন্ধ হবে। তবে এখন পর্যন্ত দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়নি। 

এ ব্যাপারে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হলেও তিনি আসলে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা সেই বিষয়ে আমি জানি না।’

শিক্ষার্থীদের ১০ দফার মধ্যে ষষ্ঠ দফায় বলা আছে, ‘বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। মোস্ট জুনিয়র ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনও সময় যেকোনও হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী সাত দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাকিল আনোয়ার তাদের আন্দোলনের গতিবিধি প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেজন্য আমরা অন্য যেকোনও দাবির বাইরে দলীয় রাজনীতি বন্ধের দিকেই জোর দিচ্ছি। বিচারের দাবি আমাদের আছেই কিন্তু সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে নেই। আমরা এখন এই মুহূর্তে চাই- এধরনের হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের ঘটনা ক্যাম্পাসে না ঘটুক। সেটি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের ১০ দফা দেখলেও বুঝবেন, সবগুলোই ক্যাম্পাসকে নির্যাতন নিপীড়নমুক্ত করার প্রক্রিয়া। আমরা উপাচার্যকে আগামীকাল (শুক্রবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি। তিনি আসবেন কিনা জানি না, যদি না আসেন আমরা ক্যাম্পাস অচল করে দিতে বাধ্য হবো।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আন্দোলন ভয়ভীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য। রাজনীতি ছাত্রদের জন্য থাকবে কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তির নামে যদি সারাক্ষণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়, তাহলে এরকম আবরার হত্যাকাণ্ড থামানো যাবে না। আমরা চাই এবারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর শেষ দেখতে। আশা করি আল্টিমেটামের সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। আমাদের সম্মিলিত যে আন্দোলন সেটির স্পিরিট যদি উপাচার্য ধরতে পারেন, তাহলে উনি সময়ের মধ্যেই আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।’

এদিকে উপাচার্য ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখছেন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক মিজানুর রহমান।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রদের এই আন্দোলন কোনদিকে যাবে আন্দাজ করতে পারছি না। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে সমস্যা অনেকটাই সমাধান সম্ভব ছিল বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছে তারমধ্যে একটি দাবি ছিল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আজীবনের জন্য বুয়েট থেকে বহিষ্কার করা। এবিষয়ে কোনোকিছু এখনও তাদের জানানো হয়নি। অন্তত কোনও উদ্যোগ যদি নেওয়া হতো, তাহলেও এটি অগ্রগতি বলতাম। আমাদের প্রশাসনের দিক থেকে সেসব বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই।’

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরারকে হত্যার পরদিন ৭ অক্টোবর ১৯ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি দক্ষিণ বিভাগ।  এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা। 

আরও খবর:
বিকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন বুয়েট ভিসি

যেভাবে বেরিয়ে আসছে বুয়েটে বিভিন্ন সময়ের ‘নির্যাতনের’ তথ্য

হত্যাকাণ্ডের এক দিন আগে আবরারকে নির্যাতনের নির্দেশ




 

/ইউআই/এএইচ/

লাইভ

টপ