বুয়েট থেকে রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ২০:৪৪, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫০, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

ছাত্রলীগ কর্নারকে মুক্তি কর্নার নামকরণ করা হয়েছে

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা হয় শুক্রবার (১১ অক্টোবর)।  শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এই ঘোষণা দেওয়ার পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। রবিবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, বুয়েট ক্যাম্পাসে এখন কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন নেই। এসব সরিয়ে ফেলেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরের একটি কর্নারের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আগে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ছাত্রলীগ কর্নার’ নামে পরিচিত ছিল। শিক্ষার্থীরা স্থানটির নাম পরিবর্তন করে সাদা রঙ দিয়ে লিখেছেন ‘মুক্তি কর্নার’।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগে ক্যাফেটেরিয়ার ওই স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আড্ডা ছিল। তাই সেটি সবার কাছে ‘ছাত্রলীগ কর্নার’ নামে পরিচিত ছিল। এখন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কারণে তারা ওই স্থানের নাম পরিবর্তন করেছেন।

ক্যাফেটেরিয়ার ওই স্থানের ওপরের দেয়ালে লেখা ছিল ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বহমান, ততো দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’। এই লেখার পাশে সৌজন্যে ছাত্রলীগের নাম লেখা ছিল। আন্দোলনকারী সেখান থেকে সাদা রঙ দিয়ে ছাত্রলীগের নাম মুছে দিয়েছে।

সাদা রঙে মুছে দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক সংগঠনের নাম

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাকিল আনোয়ার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানার-ফেস্টুন, দেয়াল লিখন শিক্ষার্থীরা মুছে ফেলেছে।’

এছাড়াও বিভিন্ন হলের দেয়ালে ছাত্রলীগে ব্যানার-ফেস্টুন যা ছিল, সব খুলে ফেলা হয়েছে। আবরার ফাহাদকে যেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সেই শেরে বাংলা হলেও কোনও রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায়নি। আগে দেয়ালের সঙ্গে অনেক ব্যানার টাঙানো ছিল বলে জানিয়েছেন হলের শিক্ষার্থীরা। একই দৃশ্য ছিল আহসান উল্লাহ হলেও।

এদিকে, আবরারসহ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র দেয়ালে অঙ্কন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ ক্যাম্পাসে শুধু আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী লেখা, গ্রাফিতি আর ব্যানার দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আবরারকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেই চিত্র এখন দেয়ালগুলোতে আঁকা হচ্ছে। আবরারকে আমরা সারা জীবন স্মরণ করবো।’

দেয়ালের রাজনৈতিক স্লোগান মুছে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হচ্ছে

আন্দোলনকারীদের অনেকে বলছেন, ‘সোম-মঙ্গলবার বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দুই দিন হাজারও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও ক্যাম্পাসে আসবেন। আগত সবাই দেয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি দেখে আবরারকে পিটিয়ে মারার ঘটনা উপলব্ধি করতে পারবেন।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার দিনই নবীনরাও যাতে আবরার হত্যার চিত্র দেখতে পান, সেজন্য আমাদের সবার উদ্যোগে দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।’

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টদের অবহিত করে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলেছে। আর আবরারের গ্রাফিতি আঁকার জন্য কয়েকটি  দেয়াল লিখন মোছানো হয়েছে। এখন সংগঠনভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। এটি বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। কেউ যদি নিয়ম অমান্য করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও খবর:

বুয়েটে দলীয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা

আবরার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ ছাত্রকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার 

ফোনে ডেকে নেওয়ার পর লাশ মিললো বুয়েট শিক্ষার্থীর

বুয়েটের দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলের ‘গেস্টরুমে’ কী হয়?




/এএইচ/

লাইভ

টপ