‘হিজড়া শব্দকোষ’ ও ‘রূপান্তরিত মানুষের গল্প’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৫০, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৬, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

জাতীয় জাদুঘরে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হিজড়াদের জীবন সম্পর্কিত ‘হিজড়া শব্দকোষ’ ও ‘রূপান্তরিত মানুষের গল্প’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বই দু’টির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ড. সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানের মাঝখানে হিজড়াদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। গ্রন্থের ওপর আলোচনা করেন বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার সামিউল আলম শাম্মি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।
নাছিমা বেগম বলেন, ‘রূপান্তরিত মানুষেরা যে একটি প্ল্যাটফর্মে এসে আমাদের সামনে কথা বলতে পেরেছে, এটাই আমি মনে করি আমাদের সার্থকতা। আমরা সবাই মানুষ এটাই আমাদের বড় পরিচয়। কারণ আমরা কে কীভাবে জন্মগ্রহণ করেছি, এটার ওপর মানুষের কোনও হাত নেই।’
রূপান্তরিত নারী হোচিমিন বলেন, ‘আমি বৈষম্যের শিকার হয়েছি আমার কণ্ঠস্বরের। আমাকে ছোট করা হয়েছে নানাভাবে। কিন্তু আমি দেখছি আমার সামনে সমাজ বদলাচ্ছে, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এই সরকার। এজন্য সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে স্বীকৃতির বিষয়টি এখনও গেজেট হিসেবে প্রকাশ পায়নি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘হিজড়া শব্দকোষ’ বইটি গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিতে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আইন ও মানবাধিকারে হিজড়াদের কীভাবে দেখা হয়। এই বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে হিজড়াদের সম্পর্কিত শব্দ নিয়ে বলা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রোগ্রামের প্রধান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা শার্মিলা রসুল প্রমুখ। বই দু’টি প্রকাশনায় সহযোগিতা করে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)। আর্থিক সহায়তা করে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস। বাস্তবায়নে ছিল ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন।

/ওআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ