বিমানে সিবিএ নির্বাচিত হলো শ্রমিক লীগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৫৪, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিমান শ্রমিক লীগ। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের সদর দফতর বলাকা ভবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ১৯টি ইউনিটে একযোগে ভোটগ্রহণ করা হয়।

সিবিএ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২০১ জন। ভোট দিয়েছেন ১৯৭৭ জন। বিমান শ্রমিক লীগ ছাতা মার্কায় ১৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মজিবুর রহমান ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে তিনটি শ্রমিক সংগঠন প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সংগঠনগুলো হচ্ছে- (সদ্য সাবেক সিবিএ) সভাপতি মশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মন্তাছার রহমানের নেতৃত্বাধীন বিমান শ্রমিক লীগ, (রেজি. ২০২৫), সাজ্জাদ ইজাজের নেতৃত্বাধীন বিমান এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (১৯১৭) ও শাহজাহানের নেতৃত্বাধীন বিমান শ্রমিক ইউনিয়ন (১৩০৮)।

বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমানি বলেন, ‘অতীতে শ্রমিকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই রায় দিয়েছেন ভোটাররা। শ্রমিক লীগ সব সময় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবো। শ্রমিক বান্ধব কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামীতে আমরা আরও তৎপর থাকবো।’

স্বাধীনতার পর ২০১১ সালে প্রথম ‘মশিকুর-মন্তাসার’ নেতৃত্বাধীন বিমান শ্রমিক লীগ সিবিএ নির্বাচিত হয়। এ নিয়ে তিন বার তারা সিবিএ নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম এক যুক্ত বিবৃতিতে নব নির্বাচিত সিবিএ নেতাদের এবং নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিমান শ্রমিক লীগের নব নির্বাচিত কমিটির নেতার হলেন:  সভাপতি মশিকুর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি  আজহারুল ইমাম মজুমদার, সহসভাপতি আব্দুর রহমান মুন্সি, সহসভাপতি রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মন্তছার রহমান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী,  সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুল হক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মো. হারুণ উর রশীদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল বারী লাভলু, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফিরোজুল ইসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আব্দুস সোহবান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা খান রেনু, আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক গোলাম কায়সার, নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, মহসিনুল হক।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধানে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার আছে। যৌথ দরকষাকষির বিধি শ্রম আইন ২০০৬ এর অধীনে ধারা ২০২ এর অন্তর্ভুক্ত। যেক্ষেত্রে কোনও প্রতিষ্ঠানে একটি মাত্র ট্রেড ইউনিয়ন থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য তা যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হবে। যেক্ষেত্রে কোনও প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকে সেক্ষেত্রে কোনও ট্রেড ইউনিয়ন অথবা মালিক পক্ষ থেকে আবেদনের ভিত্তিতে শ্রম পরিচালক আবেদন পাওয়ার ৪ সপ্তাহের মধ্যে কোন ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধি হবে তা নির্ধারণের জন্য গোপন ভোটের ব্যবস্থা করবে। একবার ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধি ঘোষণা করলে তা পরবর্তী ২ বছরের জন্য থাকবে। কোনও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তার যৌথ দরকষাকষির এজেন্ট সেই প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিকের চাকরি না থাকে, চাকরির শর্তাবলি অথবা কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে মালিকের সাথে দরকষাকষি করার, যেকোনো কাজে শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করা, এই বিধান অনুযায়ী ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়া এবং ঘোষণা করার, কোনও কমিটিতে শ্রমিকের প্রতিনিধি কে মনোনীত করা, আইন অনুযায়ী তহবিল গঠন এবং চুক্তি গঠন করা ইত্যাদি সব কাজ করে থাকে।

 

/সিএ/এএইচ/

লাইভ

টপ