২০০ টাকার কমে তেল বিক্রিতে অনীহা, বিপাকে মোটরসাইকেল চালকরা

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ১১:২৩, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৩, অক্টোবর ১৮, ২০১৯





তেলের পাম্প

অফিসের কাজে বিভিন্ন স্থানে ছুটোছুটি করতে হয় আশিকুর রহমানের। কাজের সুবিধার্থে তিনি মোটরসাইকেল চালান। গত ৬ অক্টোবর দুপুরে বনানীতে তার মোটরবাইকের তেল শেষ হয়ে যায়। রিজার্ভ ট্যাংকের তেল দিয়ে তিনি মহাখালীর সিএম পাম্পে তেল নিতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, পাম্পের ফুয়েলিং মেশিনের গায়ে লেখা রয়েছে— ২০০ টাকার নিচে তেল বিক্রি হয় না। কিন্তু তার পকেটে তখন ছিল ১৫০ টাকা। তিনি পাম্পের সেলসম্যানকে ১০০ টাকার তেল দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সেলসম্যান জানান, ২০০ টাকার কমে তারা তেল বিক্রি করেন না। এটা পাম্প কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বলেও জানান ওই সেলসম্যান। বাধ্য হয়ে আশিকুর রহমান মহাখালীর অন্য একটি পাম্প থেকে তেল নেন। এভাবেই মোটরসাইকেল চালকরা বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষই দুই থেকে তিনশ’ টাকার নিচে তেল বিক্রি করতে চায় না।


পাম্পে আসা জ্বালানি তেলের একাধিক ক্রেতা জানান, একজন গাড়িচালক যতটুকু ইচ্ছে ততটুকু পরিমাণে তেল কিনতে পারেন। তবে রাজধানীতে দুই-একটি পাম্প আছে, যেখানে নির্ধারিত টাকার কমে তেল কেনা যায় না। এটা ভোক্তার অধিকারের পরিপন্থী। এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও জানান জ্বালানি তেলের ক্রেতারা।
মাহাখালীর সিএম সার্ভিসিং স্টেশন লিমিটেড পাম্পে সরেজমিনে দেখা যায়, চারটি ফুয়েল মেশিন রয়েছে। এরমধ্যে দুটি মেশিনের গায়ে কাগজে প্রিন্ট করা ক্রয়সীমার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইংরেজিতে লেখা রয়েছে Octane Minimum purchase BDT. 200। সেখানকার বিক্রয় কর্মীরা জানান, পাম্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই নোটিশ লাগানো হয়েছে।
সিএম সার্ভিসিং স্টেশন লিমিটেড পাম্পের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘৫০/১০০ টাকার তেল বিক্রি করলে লাভ থাকে না। তেলের মেশিনতো বিদ্যুতের সাহায্যে চলে। তেল তুলতে গেলে মেশিন চালু হয়। এতে ২০০ টাকার কম তেল বিক্রি করলে আমারে লোকসান হয়। এছাড়া বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ চালকই ১০০ টাকার তেল নিতে আসেন। মোটরসাইকেলের সিরিয়ালের কারণে পাম্পে অন্যান্য গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়। তাই ক্রয়সীমার নোটিশ লাগানো হয়েছে।’
রাজধানীর বিজয়  সরণীতে  ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও পাম্পের মেশিনের গায়ে  তেলের  ‘সর্বনিম্ন ক্রয়সীমা ৩০০ টাকা’র নোটিশ লাগানো রয়েছে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনও মোটরসাইকেল চালকের কাছে টাকা কম থাকলে, সেক্ষেত্রে ৩০০ টাকার কমেও তেল বিক্রি করা হয়। এছাড়াও অসংখ্য মোটরসাইকেল চালক পাম্পে তেল নিতে আসেন।  মোটরসাইকেলের এই প্রচণ্ড চাপের কারণে পাম্পে অন্যান্য গাড়ি ঢুকতে পারে না।  
জনগণের সুবিধার্থে ক্রয়সীমার নোটিশ লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সেলস অফিসার মো. কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমাদের পাম্পে প্রতিদিনই প্রচুর চাপ থাকে। তেলের জন্য অপেক্ষমান মোটরসাইকেলের লম্বা সিরিয়াল হয়। অনেকে আবার অগোছালো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে পাম্পে আসা অন্য গাড়িগুলো ঢুকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে ১০০ টাকার তেল নিয়ে এক  হাজার টাকার নোট দেন। এতে আমরা খুচরা টাকার বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৪-৫ লাখ টাকার খুচরা নোট আমাদের আনতে হয়। এরপরও খুচরা টাকার সংকট দেখা দেয়। ‘৩০০ টাকার কমে তেল বিক্রি হয় না’ এই নোটিশের কারণে ৫০/১০০ টাকার ক্রেতারা ঠিকই  ৩০০ টাকা যোগাড় করেই পাম্পে তেল নিতে আসবেন। এতে ক্রেতাদের তেল নিতে বারবার পাম্পে আসতে হবে না।’
মোটরসাইকেল চালক রাজন রেজা তানিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘রাজধানীর  অন্য পাম্পগুলোতে ১০০ টাকার তেল চাইলে পাওয়া যায়। তবে কয়েকটি পাম্পে এই নির্ধারিত ক্রয়সীমা চার্ট লাগানো হয়েছে। তাছাড়া যতটুকু তেল দরকার আমি ততটুকুই কিনবো, এটাই হওয়া উচিত।  

 

/এসজেএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ