মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৫২, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫২, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

 

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করেন।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে ও সালেহ আহমেদের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘অজয় রায় সবসময় দেশ ও সমাজ নিয়ে ভাবতেন, আমাদেরকেও ভাবতে উৎসাহিত করতেন। দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে তিনি উদ্বিগ্ন হতেন। প্রতিকারে আমাদেরকে দিক নিদের্শনা দিতেন।

সভাপতির বক্তব্যে জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, ‘অজয় রায় সবসময় জাতীয় দুর্যোগের মুহূর্তগুলো নিয়ে চিন্তিত থাকতেন, তিনি নিজস্ব চিন্তা থেকে সবসময় সবাইকে সজাগ রাখার বিষয়ে উদ্যোগী হতেন। সারাদেশে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং নানান শংঙ্কা ব্যক্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিতেন। আজকে এই সময়ে অজয় রায়ের মতো চিন্তাশীল নেতৃত্বের খুবই দরকার। তার চেতনা ও মননশীলতায় আমরা বিমোহিত। আমরা অজয় রায়ের দিক নির্দেশনার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করি। তার শূন্যতা জাতীয় জীবনে অপূরণীয় হয়ে আছে।'

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘অজয় রায় যে মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন, যে স্বপ্ন পূরণে আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন সেই সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমরা আজও অর্জন করতে পারিনি। তবে আমি আশাবাদী, আমাদের নতুন প্রজন্ম কমরেড অজয় রায়ের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবে।’

বিচারপতি কাজি এবাদুল হক বলেন, ‘অজয় রায় ছিলেন একজন সমাজ সচেতন অতিমানবিক একজন রাজনীতিক। তার সাম্যবাদী রাজনৈতিক দর্শন আমাদের চলার পাথেয়। সাম্প্রদায়িকতাবাদী, লুটেরা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তার সাহসী উদ্যোগ চিরস্মরণী হয়ে থাকবে।’

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন বলেন, ‘অজয় রায় অসাস্প্রদায়িক স্বদেশ গড়ার যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সূচনা করেছেন তা অব্যাহত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘অজয় রায় ছিলেন একজন জীবনবাদী রাজনীতিক। মানব মুক্তিই ছিল তার অভিষ্ট লক্ষ্য।’

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, মনিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সভাপতি শেখর দত্ত, মুকুল চৌধুরী। অজয় রায়ের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন তার সহধর্মিনী জয়ন্তী রায়। ঐক্য ন্যাপের সহ সভাপতি অডভোকেট এসএমএ সবুর, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।


অজয় রায়ের প্রতকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(বিসিএল), আনন্দন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, সাংস্কৃতি মঞ্চ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ঢাকা মহানগর,।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরোধাপুরুষ অজয় রায় ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বারানসী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই এস সি পাশ করেন ১৯৪৫ সালে। ছাত্রজীবনেই মার্কসবাদী আদর্শে দীক্ষিত হন অজয় রায়। এরপর কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন আপাদমস্তক। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক একতা’র সম্পাদক ছিলেন অনেকদিন।

অজয় রায়ের সহকর্মীরা জানান, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদযাপন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন, মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন, উদীচী, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কালজয়ী কার্যক্রমের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন প্রথম সারিতে। ১৯৯২ সালে কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হলে প্রথমে ‘কমিউনিস্ট কেন্দ্র’ পরে ১৯৯৮ সালে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ গড়ে তোলেন। মৃত্যু অবধি তিনি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে দেশের ২৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে ‘সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ’ গড়ে তুলে এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অজয় রায়।

/এসটিএস/এআর/

লাইভ

টপ