আবরার হত্যাকাণ্ড: তদন্ত কমিটি কয়টি?

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:২১, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪২, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

আবরার হত্যাকাণ্ডবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সামগ্রিক তদন্ত কমিটির পাশাপাশি হলগুলোয়ও আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর এসব কমিটির ‘দেখভালের’ জন্যও গঠন করা হয়েছে আরও একাধিক কমিটি। তবে, বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব কমিটি গঠনের দাবি করলেও এর সংখ্যা বলতে রাজি হননি কেউই। এমনকি কমিটিগুলো কতদিনে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে,  এসব কমিটিতে কারা রয়েছেন, সে বিষয়েও কোনও তথ্য দিতে রাজি হয়নি বুয়েট প্রশাসন। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,  স্বচ্ছতার স্বার্থেই যেকোনও তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা, তাদের পরিচয়, কর্মপরিধি ও কার্যকাল সবাইকে জানানো উচিত।

এদিকে, তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট তথ্য না দিলেও এগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে ছাত্রকল্যাণ পরিষদ (ডিএসডব্লিউ)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. আব্দুল বাছিত বলেন, ‘সাধারণত তদন্ত কমিটি ৩ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়। ঘটনার গুরুত্বের কারণে এবারের কমিটিগুলো বেশি সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়েছে। যেন দোষী ব্যক্তি শাস্তি পায়। তবে নির্দোষ কেউ যেন শাস্তি না পায়। ত্রুটি এড়ানোর জন্যই কমিটি শক্তিশালী করা হয়েছে।’

কমিটির সংখ্যা কত—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. বাছিত বলেন, ‘সব মিলিয়ে একটি সামগ্রিক তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এছাড়া, আগের নির্যাতন নিয়ে তিতুমীর হল, শেরেবাংলা হল ও আহসানুল্লাহ হলে আলাদা তদন্ত কমিটি করা  হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি কেউ যদি  অভিযোগ করে, সেই অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি, মনিটরিং করার জন্য আরও একটি কমিটি করা হয়ছে।’ মোট কয়টি কমিটি এবং সদস্য কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো ভীষণ গোপনীয়। যিনি তদন্ত করছেন, তার নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। এজন্য তালিকা প্রকাশ করা হয় না। এটাই নিয়ম।’

পূর্ববর্তী অভিযোগ নিয়ে কাজের প্রসঙ্গে ড. বাছিত বলেন, ‘প্রশাসন থেকে যত ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা নেওয়া হচ্ছে।’

 এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাসুদ বলেন, ‘কয়টি তদন্ত কমিটি হয়েছে, আমরা জানি না। আমি নিজেও জানার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিষদ ভালো বলতে পারবে।’ কমিটি সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার বিধান আছে কিনা—এমনপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাধারণত গোপন রাখা হয়, যেন কেউ তাদের প্রভাবিত করার সুযোগ না পায়।’

এদিকে, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। এখন করণীয়গুলো দ্রুত নির্ধারণ না করতে পারলে পরিবেশ সুষ্ঠু করে গড়ে তোলা যাবে না। কিন্তু এক ধরনের গাফলতি আমাদের নজরে এসেছে। বিশেষত নানা সময়ে নির্যাতনের পুরনো যে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে জমা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করা জরুরি।’

এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ড. বাছিত বলেন, ‘কমিটি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করবেন। কোনও প্রশ্ন যেন না ওঠে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিটি অনেক বড় করা হয়েছে।’

এ ধরনের পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটির বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এই বলতে না পারাটা বা বলতে না চাওয়াটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। আস্থা অর্জন করতে হলে কারা এই তদন্ত কমিটিতে আছেন, তারা কী দেখবেন, কত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করবেন, এটা জানানো দরকার। জন আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কমিটি হওয়ার কথা। ফলে এসব বিষয় গোপন রাখার কোনও সুযোগ নেই।’

নূর খান আরও বলেন, ‘কমিটি জানা গেলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পাবে কিনা. সেই শঙ্কাও রয়েছে। তদন্ত কমিটি সবসময়ই এক ধরনের ভয় থেকে কথা বলতে চায় না।’ আস্থা ও সততার অভাব থাকলে এমন হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।  

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ