ভোলার ঘটনায় উদ্বেগ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৪, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৫, অক্টোবর ২১, ২০১৯

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে কথিত ‘কটূক্তি’র জের ধরে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘটিত সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত ও পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সোমবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবক সেদিন সন্ধ্যার পর স্বেচ্ছায় বোরহানউদ্দিন থানায় আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখে। একইসঙ্গে পুলিশ আইডি হ্যাকের সঙ্গে সম্পৃক্ত দু’জনকে আটক করে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০ অক্টোবর রবিবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এ যুবকের বিচারের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে সংঘবদ্ধ একশ্রেণীর উগ্র জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার ফলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়। সংঘর্ষে পুলিশের ১০ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘অভিযুক্ত যুবক পুলিশ হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও এবং আইডি হ্যাকের সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ আটক ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরও একটি জনগোষ্ঠীর এমন সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ এবং পরবর্তী সময়ে তা থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র তদন্ত কমিটির কাছে পুরো পরিস্থিতির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ইতোপূর্বেও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু দুঃখজনক যে, সেগুলোর প্রকৃত সত্য, মামলার অগ্রগতি কিংবা সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জনসম্মুখে কোনও তথ্য নেই। এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জনসম্মুখে প্রকাশ ও আগের সব ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জনগণকে জানানো প্রয়োজন। এ ডিজিটাল যুগে এমন স্পর্শকাতর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা তৈরি, প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি, সর্বোপরি সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

 

/জেইউ/টিএন/

লাইভ

টপ